সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সমকালীন সাহিত্যের মেলবন্ধন

| শুক্রবার , ৯ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদি সাহিত্যবিশারদ অ্যান কারসনকে বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও হতাশা নিয়ে তাঁর লেখায় রহস্যবাদ ও প্রাচীনত্বকে আধুনিক রূপ দেওয়ার জন্য তিনি এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। খবর বাসসের।

স্টকহোম থেকে এএফপি জানায়, সুইডিশ একাডেমি জানায়, ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা তাঁর সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের’ জন্য ৭৬ বছর বয়সী কারসনকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

একাডেমির স্থায়ী সচিব ইনগ্রিড কার্লবার্গ জানান, তিনি কারসনের সঙ্গে সংক্ষেপে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের খুব বেশি সময় কথা বলার সুযোগ হয়নি। তিনি শুধু আমাকে বলতে পেরেছেন, এই মুহূর্তে তিনি আইসল্যান্ডে আছেন এবং সেখানে বাতাসের শব্দ শুনছেন।’

কার্লবার্গ বলেন, ‘তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন, তবে খুবই আনন্দিত। তাঁর কণ্ঠে তা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি।’

প্রাচীন মৃত ভাষা, সাহিত্য, নৃবিজ্ঞান ও ইতিহাসে অভিজ্ঞ থাকা কারসন ধ্রুপদি সাহিত্যের অধ্যাপক। ২০০১ সালে নিউইয়র্ক টাইমস তাঁকে ‘অন্যতম সেরা প্যাস্টিশকার’ হিসেবে বর্ণনা করে। তাঁর স্বতন্ত্র সমকালীন কবিতা ১৯৯০–এর দশকে তাঁকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার এনে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালের ল্যানান অ্যাওয়ার্ড এবং ১৯৯৭ সালের পুশকার্ট প্রাইজ।

এর এক বছর পর তাঁর ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : আ নভেল ইন ভার্স’ ব্যাপক প্রশংসা পায়। গ্রিক পুরাণের দানব গেরিয়ন ও হেরাক্লিসের কাহিনি থেকে মোটামুটি অনুপ্রাণিত হলেও বইটিতে সেটিকে সমকামী প্রেমের ত্রিভুজকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক কাহিনিতে রূপ দেওয়া হয়েছে।

একাডেমি বলেছে, কারসনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মই ‘শব্দের প্রতি ভাষাতত্ত্ববিদের আবেশ এবং নতুন অর্থের জন্য কবির আকাঙ্ক্ষার সংযোগস্থল’কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

একাডেমি তাঁর ‘নঙ’ কবিতাটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০০০ সালে মারা যাওয়া তাঁর ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটানা কাগজে মুদ্রিত এ দীর্ঘ কবিতাটিকে ‘অবিস্মরণীয় সৃষ্টি’ বলে অভিহিত করেছে একাডেমি। একাডেমি বলেছে, ‘এখানে গভীর শোকের অনুভূতি স্পষ্ট, যা ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসে। এর ফল এমন এক সৃষ্টি, যা সাহিত্যিক হওয়ার পাশাপাশি ভাস্কর্যের মতোও। এটি একটি বাঙের আকারে তৈরি স্মৃতিফলক, যার ভেতরে মৃত ভাইকে উৎসর্গ করা ছবি, চিঠি ও অন্যান্য লিখিত উপাদান ভাঁজ করা দীর্ঘ কাগজে সংযুক্ত রয়েছে।’

কারসন বহু বছর ধরেই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধড্রাই ডকের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর
পরবর্তী নিবন্ধআবরার ফাহাদের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর