সরকারি প্লটের বেসরকারি বাণিজ্য!

অনেক প্লট বারবার হাত বদল, হয় না ভবন সিডিএর ১২ আবাসিক এলাকা

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) গড়ে তোলা আবাসিক এলাকার কোনো কোনোটিতে একেকটি প্লট পাঁচ-সাতবারও হাত বদল হয়েছে। কিন্তু ভবন হয়নি। প্লট বরাদ্দের পর বারবার হাত বদলে ভাগ্য বদল হলেও বাস্তবায়নকারী সংস্থার উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। বরাদ্দ পাওয়া প্লটে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণ করা না হলে বরাদ্দ বাতিলের আইন থাকলেও তা কার্যকর না হওয়ায় সরকারি প্লটের বেসরকারি বাণিজ্য চলছেই।
১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিডিএ ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১২টি আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে। এসব এলাকায় মোট ৬৩৬৪টি প্লট তৈরি করে বিভিন্ন জনের নিকট বরাদ্দ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলো একের পর এক হাত বদল হয়েছে। কয়েক লাখ টাকা দামের প্লট কয়েক কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একেকটি প্লটের পাঁচ-সাতবার হাত বদলের মতো রেকর্ডও রয়েছে। প্রতিবারই দাম বেড়েছে। প্রতিবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাগ্য বদল হয়েছে। কিন্তু প্লটগুলোতে কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। সিডিএর বিভিন্ন আবাসিক এলাকার অনেক প্লট এখনো খালি পড়ে আছে। তবে সবচেয়ে বড় সংকটে রয়েছে সলিমপুর আবাসিক এলাকা এবং কর্ণফুলী আবাসিক এলাকা। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এই দুটি আবাসিক এলাকার দেড় হাজারেরও বেশি প্লটের সিংহভাগই খালি।
সিডিএ সূত্র জানায়, সিডিএর ১৯৬৩ সালে গড়ে তোলা কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় প্লট রয়েছে ৫৮টি। ১৯৬৫ সালে গড়া আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার প্লটের সংখ্যা ৩৯১টি। ১৯৭৩ সালে গড়ে তোলা চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ৭৫৯টি। ১৯৭৭ সালে গড়ে তোলা কর্নেল হাট সিডিএ আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ১৬৮টি। ১৯৮৪ সালে করা সলিমপুর আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ৯০৪টি। ১৯৯৫ সালে করা কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পে প্লটের সংখ্যা ৫১৭টি। ২০০০ সালে করা চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ১৮০টি। ২০০২ সালে করা চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা দ্বিতীয় পর্যায়ে প্লটের সংখ্যা ৮২টি। ২০০৬ সালে করা কল্পলোক আবাসিক এলাকায় প্রথম পর্যায়ে প্লটের সংখ্যা ৪২৩টি। ২০০৭ সালে করা কল্পলোক আবাসিক এলাকা দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩৫৬টি। ২০০৮ সালে করা অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ১৪৭৮টি এবং ২০০৯ সালে ষোলশহর পুনর্বাসন এলাকায় সিডিএ ৪৮টি প্লট বরাদ্দ দেয় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের। সবকিছু মিলে চট্টগ্রামে গড়ে তোলা ১২টি আবাসিক এলাকার শত শত খালি প্লট নিয়ে বেসরকারি বাণিজ্য চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, সিডিএ আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে আবাসন সংকট ঘুচানোর জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আবাসন সংকট ঘুচানোর চেয়ে প্লটগুলো বরাদ্দপ্রাপ্তদের ভাগ্য বদলে বেশি কাজ করছে। প্লট বরাদ্দ পাওয়ার ৫ বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণের একটি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।
সিডিএর একজন কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের ভবন নির্মাণের ব্যাপারে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয় না। কোনো কারণে প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা মামলা করে দেন। এতে সংস্থা আইনি জটিলতায় পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মামলায় জেতা সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্ট প্লট গ্রহীতা বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার উল্লেখ এবং আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে আদালতের সহানুভূতি পেয়ে যান। এতে করে বিভিন্ন প্লট গ্রহীতা ভবন নির্মাণ না করলেও সিডিএ ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকে। সিডিএর প্লটগুলোতে যথাযথভাবে ভবন হলে নগরীর আবাসন সংকট ঘুচাতে ভূমিকা রাখত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা বলেছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ৫০ হাজার ছাড়াল নিবন্ধন
পরবর্তী নিবন্ধসম্মেলনের ১৪ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি