সরকারি পরীক্ষাবিষয়ক সংশোধিত আইনের কয়েকটি ধারা অসামঞ্জস্যপূর্ণ মন্তব্য করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ‘সরকারি পরীক্ষা (অপরাধসমূহ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’–এর কতিপয় ধারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কঠোর, অস্পষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতীয়মান হয়েছে বলে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাকবিশিস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত আইনের মাধ্যমে পরীক্ষা–সংক্রান্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী আইনের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তবুও কতিপয় বিধান ‘ডিউ প্রসেস অব ল’ এবং পেশাগত মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই সংশোধনীতে প্রস্তাবিত কঠোর শাস্তির বিধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবন, পেশাগত মর্যাদা এবং শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এছাড়াও দুর্ঘটনাজনিত ভুল ও প্রতারণামূলক বা জালিয়াতিমূলক মূল্যায়নের মধ্যে ন্যূনতম সীমা এবং পার্থক্য আইনগতভাবে স্পষ্ট করা এবং শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, আইনবিদ ও মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে আইনটি চূড়ান্ত করার দাবি জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গবেষক অধ্যাপক ড. ন হ ম আবু বকর, ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে খন্দকার সেলিম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন (জুয়েল). গাংবাদিক রাজু আহম্মেদ, বাকবিশিস সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, শিক্ষক নেতা আলী আহমদ, শিক্ষা গবেষক এনামূল হক, গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রতিনিধি শামসুন্নাহার কলি, অধ্যাপক মিজানুর রহমান মজুমদার ও অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নূরে আলম বিপ্লব, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহীনূর আলম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










