সবার বিরুদ্ধে অভিন্ন ধারা ও অভিযোগ

| বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সাত আসামির বিরুদ্ধে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ ছাত্রজনতার ওপর আক্রমণ, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ১ হাজার ৪শর বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর জখম করা হয়। অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সাতজনকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩এর ৩()(), (), () এবং ৪(), (), () ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

ওবায়দুল কাদের : আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন? অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’ বলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি। আন্দোলন দমনে ইন্টারনেট ধীর করা, পুলিশর‌্যাবকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ এবং ১৯ জুলাই শুট অ্যাট সাইট বা দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে ফোনালাপেও আন্দোলন দমনের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

বাহাউদ্দিন নাছিম : অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৯ ও ১৫ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে বসে ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ ও প্ররোচনা দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজ জেলা মাদারীপুরে আন্দোলন দমনের বিষয়টি তিনি সার্বক্ষণিক তদারকি করতেন এবং তার নির্দেশে সেখানে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।

৪ আগস্ট ফার্মগেটে আন্দোলনকারীদের স্বাধীনতাবিরোধী ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাহাউদ্দিন নাছিমের প্ররোচনায় নির্বাচনি এলাকা ঢাকাএ সশস্ত্র হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত : অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৩ ও ১৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে মহড়া দিয়ে হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঢাকা১৭ আসনের মহাখালী ও গুলশান এলাকায় হামলা চালিয়ে একাধিক আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়। এছাড়া আন্দোলন দমনে সরকারের বল প্রয়োগের খবর প্রচার করায় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৮ ও ২২ জুলাই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল।

শেখ ফজলে শামস পরশ : আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী, যুবলীগ চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ ফজলে শামস পরশ তার অধীনস্থ নেতাকর্মীদের সশস্ত্র অবস্থায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তার নির্দেশ ও নেতৃত্বে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলন চলাকালে হামলা চালায়।

১৮ জুলাই সারা দেশে গুলিতে অন্তত ২৩ জন নিহত এবং আড়াই হাজারের বেশি ছাত্রজনতা আহত হওয়ার কথাও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। পরশের বিরুদ্ধে ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে জামায়াতশিবিরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মাইনুল হোসেন খান নিখিল : অভিযোগপত্র অনুযায়ী, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১২ জুলাই সিলেটে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যুবলীগ নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় অংশ নেওয়া এবং ১৯ জুলাই মিরপুর এলাকায় অস্ত্র হাতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নিখিলের সরাসরি নেতৃত্ব ও নির্দেশে মিরপুরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রুস্তম, আসিফ ইকবালসহ ২৬ জনকে হত্যা করা হয়।

সাদ্দাম হোসেন : অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ১১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশ পেয়ে আন্দোলন দমনে দলীয়ভাবে পরিকল্পনা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১১ জুলাই বিকালে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাদ্দামের ফোনালাপ হয় এবং সেখানে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ১৬ জুলাই রাজু ভাস্কর্যে সাদ্দামের বক্তব্যের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সশস্ত্র গোষ্ঠী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান : অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৩ জুলাই মধুর ক্যান্টিনে ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইনের নামে আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার সময় হেলমেট পরা অবস্থায় মাঠে থেকে তা সরাসরি তদারকি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আল জাজিরায় ফাঁস হওয়া কথোপকথনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশ পেয়ে তা সারা দেশে বাস্তবায়নের বিষয়টি উঠে আসে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম জাতীয় পতাকা নির্মিত হবে বিপ্লব উদ্যানে : মেয়র
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ শতাংশ সক্ষমতা অব্যবহৃত