শ্রাবণ মাস চলছে। ভরা বর্ষা মৌসুম। অথচ বৃষ্টির দেখা নেই। যে সময় অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত হওয়ার পাশাপাশি ঠান্ডা হাওয়া বয়ে যাওয়ার কথা সে সময় পড়ছে অসহনীয় তাপদাহ। সেই সাথে নিয়মিত লোডশেডিং। তীব্র গরমের এই সময়ে সকল শ্রেণী–পেশার মানুষের কাছে কদর বেড়েছে হাতপাখার। বিশেষ করে তালপাতা দিয়ে তৈরি হাতপাখার কদর একটু বেশি।
জানা যায়, চন্দনাইশে রয়েছে তালপাতার হাতপাখা তৈরির একটি গ্রাম। পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের জিহস ফকিরপাড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষই তালপাতার পাখা তৈরি করে আসছেন বংশানুক্রমে। এ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার হাতপাখা তৈরির সাথে জড়িত রয়েছে। এ গ্রামটি এখন পাখাগ্রাম হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। গ্রামের নারী–পুরুষ, শিশু–কিশোর, বৃদ্ধ সবাই একেক জন দক্ষ পাখা শিল্পী। হাতপাখা বিক্রি করে এ গ্রামের অনেক পরিবার এখন স্বাবলম্বী।
জানা যায়, হাতপাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা, বাঁশ, বেত ও রং সংগ্রহের পর বাড়ির নারী–পুরুষ, শিশু–কিশোর সকলে মিলে পাখা তৈরি করতে বসে পড়েন। এ অঞ্চলে ৭ তারী, ৯ তারী, ১১ তারী, ১৩ তারী এবং ১৫ তারীর হাতপাখা তৈরি হয়। এরমধ্যে তালগাছের ডিগ পাতা দিয়ে তৈরি হওয়া হাতপাখাগুলো মজবুত ও টেকসই হয়। এগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা যায় এবং এগুলোর চাহিদাও বেশি। প্রতিজোড়া হাতপাখা প্রকারভেদে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।
জিহস ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের পুত্র দুবাই প্রবাসী মো. নাসির উদ্দিন (৩৬) জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও তাদের পরিবারের সদস্যরা তালপাতার হাতপাখা তৈরি করতো। প্রতিবছর প্রচুর হাতপাখা পাইকারদের নিকট বিক্রি করতো। তিনি নিজেও হাতপাখা শিল্পী ছিলেন। তালপাতার হাতপাখা বিক্রির টাকায় তিনি দুবাই গিয়েছেন।
কামাল উদ্দীন নামে এক পাখা বিক্রেতা জানান, শীত মৌসুম ছাড়া সারা বছর হাতপাখার চাহিদা থাকে। বিশেষ করে চৈত্র বৈশাখ মাসে এর চাহিদা তিনগুন চারগুন বেড়ে যায়। এখন শ্রাবণ মাসেও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় তীব্র তাপদাহে হাতপাখার চাহিদা বেড়েছে।
পাখা শিল্পীরা জানান, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বার মিয়ার বলী খেলা উপলক্ষে আয়োজিত লালদিঘির মেলায় হাতপাখা বেশি বিক্রি হয়। মেলায় চন্দনাইশের পাখাগ্রামে তৈরি কমপক্ষে ৫ লক্ষাধিক হাতপাখা বিক্রি হয় বলে জানান তারা। এছাড়া ফটিকছড়িতে মাইজভান্ডার ওরশ শরীফ ও আনোয়ারার মোহছেন আউলিয়ার বার্ষিক ওরশ শরীফ, পহেলা বৈশাখ ও দেশের বিভিন্নস্থানে অনুষ্ঠিত মেলা, খেলা, গরুর লড়াই ইত্যাদিতে হাজার হাজার হাতপাখা বিক্রি হয়।













