আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থকরা এখনো গলাবাজি করে চলেছেন যে শেখ হাসিনার ২০০৯–২০২৪ মেয়াদের শাসনামলে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। চোখের সামনে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কিংবা ঢাকা এয়ারপোর্টের তৃতীয় টার্মিনালের মত মেগা–প্রকল্প থাকায় তাদের এহেন গলাবাজি সাধারণ জনগণ গ্রহণযোগ্য মনে করলে দোষ দেওয়া যাবে না। কিন্তু সত্য কথা হলো, এসব দৃশ্যমান মেগা–প্রকল্পগুলো চমকপ্রদ মনে হলেও এর প্রতিটির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অবিশ্বাস্য পুঁজি–লুন্ঠনের কাহিনী। এগুলোর পাশাপাশি সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার তথাকথিত উন্নয়ন–প্রকল্প, যেগুলোর মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পগুলো জনগণের কাছে প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হওয়ায় একটা ধারণা দেশের জনমনে (এবং বিদেশেও) গেড়ে বসেছে যে হাসিনার সাড়ে পনেরো বছরের শাসনকালই ছিল এদেশের অর্থনীতির স্বর্ণযুগ। কিন্তু, আমরা যারা প্রতিটি প্রকল্পের মাধ্যমে পুঁজিলুন্ঠনের কাহিনীগুলোর প্রকৃত হাল–হকিকত বুঝতে সক্ষম তারা আগাগোড়াই বুঝতে পারতাম যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে হাসিনা এদেশে অভূতপূর্ব লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছিলেন, যেগুলোর খেসারত জনগণকে দিয়ে যেতে হবে বহু বছর ধরে। বক্ষ্যমাণ কলামে আমি এই কাহিনীটা বর্ণনা করতে চাই।
প্রতিটি মেগা–প্রকল্পে প্রকৃত ব্যয়ের তিন–চার গুণ বেশি ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা, যেজন্য এসব প্রকল্পের ব্যয় ‘বিশ্বের সর্বোচ্চ’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। স্বৈরশাসক হাসিনার শাসনকালের সাড়ে পনেরো বছর ছিল দেশে দুর্নীতি ও পুঁজি–লুন্ঠনের মহোৎসব–কাল। এখন জানা যাচ্ছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলা হলেও প্রকৃত ব্যয় দশ হাজার কোটি টাকার নিচে, বাকিটা স্রেফ লুন্ঠিত হয়ে গেছে। রূপপুর প্রকল্পে এক লাখ তের হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলা হলেও প্রকৃত ব্যয় নাকি এর অর্ধেকেরও কম। কর্ণফুলী টানেলে সাড়ে দশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলা হলেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছিল যে দেশের চলমান ৮২টি প্রকল্পে শেখ হাসিনার কোন না কোন আত্মীয়–স্বজন জড়িত রয়েছে, যেগুলোর প্রকল্প–ব্যয় একান্ন হাজার কোটি টাকার বেশি। হাসিনার পরিবার, আত্মীয়–স্বজন এবং অলিগার্ক ব্যবসায়ীরাই শুধু নয়, আওয়ামী লীগের প্রায় সকল মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চ–স্তরের নেতা–কর্মী এমনকি স্থানীয় পর্যায়ের নেতা–কর্মীরাও ঐ সাড়ে পনেরো বছরে কোন না কোনভাবে দুর্নীতি, পুঁজি–লুন্ঠন ও পুঁজি পাচারে জড়িয়ে গিয়েছিল। বিশেষত, অজস্র ঋণ করার কৌশল পুরো জাতিকে যে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ঋণের সাগরে নিমজ্জিত করেছে সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়েছে এজন্য যে ঐ ঋণের সিংহভাগই স্রেফ পুঁজি–লুন্ঠনের মাধ্যমে লুন্ঠিত হয়ে বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। হাসিনা আমলের ‘এক নম্বর সমস্যায়’ পরিণত হয়েছিল পুঁজি পাচার। অন্তর্বর্তী সরকারের আদেশে গঠিত ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্র কমিটির গবেষণায় উঠে এসেছে, স্বৈরশাসক হাসিনার সাড়ে পনেরো বছরের লুটপাটতন্ত্রের মাধ্যমে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার হিসেবে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার লুন্ঠিত হয়ে দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি লুন্ঠনের শিকার হয়েছে ব্যাংকিং ও ফাইনেন্সিয়াল খাত, তারপর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, তারপর ভৌত অবকাঠামো খাত এবং এরপর তথ্য প্রযুক্তি খাত। এই পুঁজি–লুন্ঠনের কেন্দ্রে ছিল হাসিনা–পুত্র জয়, রেহানা–কন্যা টিউলিপ ও রেহানা–পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও তার পুত্র শেখ ফাহিম, শেখ হেলাল, তাঁর ভাই শেখ জুয়েল ও তাঁর পুত্র শেখ তন্ময়, সেরনিয়াবাত হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর পুত্র সাদিক আবদুল্লাহ, শেখ তাপস, শেখ পরশ, লিটন চৌধুরী ও নিক্সন চৌধুরী এবং হাসিনার অন্যান্য আত্মীয়–স্বজন। আর ছিল এস আলম, সালমান রহমান, সামিটের আজিজ খান, বসুন্ধরার আকবর সোবহান, ওরিয়ন গ্রুপের ওবাইদুল করিম ও নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদারের মত লুটেরা অলিগার্ক ব্যবসায়ী এবং হাজার হাজার লুটেরা রাজনীতিবিদ ও দুর্নীতিবাজ আমলা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারিখে বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে আঠারো লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অথচ, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার দিনে বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল মাত্র দুই লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার আট’শ ত্রিশ কোটি টাকা। এর মানে, এই দুই ঋণের স্থিতির অংকের পার্থক্য দাঁড়িয়েছে পনেরো লক্ষ আটান্নো হাজার দুই’শ ছয় কোটি টাকা। গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার আগে হাসিনা এই সুবিশাল আঠারো লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকার ঋণের সাগরে দেশের জনগণকে নিমজ্জিত করে প্রতি বছর মাথাপিছু জিডিপি’র উচ্চ–প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে চলেছিলেন, যাকে বলা চলে ‘নিকৃষ্টতম শুভংকরের ফাঁকি’ ও জনগণের সাথে ভয়ানক প্রতারণা। এর জন্য তিনি চালু করেছিলেন অর্থনীতির প্রায় সকল সামষ্টিক পরিসংখ্যানকে (macro statistics) ‘অবিশ্বাস্য ডক্টরিং’ করার একটি সর্বনাশা ব্যবস্থা। এই সাড়ে পনেরো বছরের একটিও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের নাম করা যাবে না যেটা তাঁর সরকার কর্তৃক বিকৃত করা হয়নি। আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক, জাতিসংঘ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এদেশের অনেক পরিসংখ্যানকে গ্রহণযোগ্য মনে না করলেও বিকল্প তথ্য–উপাত্তের সূত্রের অভাবে বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিক্সের পরিসংখ্যানকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে, দেশে–বিদেশে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে একটা কৃত্রিম–উচ্চাশা সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৯ সালে একটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য যে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, তাঁর আত্মীয়–স্বজন ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে বলেছিলেন,‘২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি প্রচুর টাকা–পয়সা বানিয়েছে। অতএব, তোমরা দু’হাতে টাকা বানাও’। তখনকার সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাজউদ্দিন–পুত্র সোহেল তাজের বয়ানে বিষয়টি এখন জাতি জেনে গেছে। ক্ষমতাসীন হওয়ার চার মাসের মধ্যেই সোহেল তাজ মন্ত্রীত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের বেয়াই ইকবাল হাসান মাহমুদকে বিদেশে যেতে না দেওয়ার অপরাধে হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের কাছে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ব্যাপারটির সুরাহা করার জন্য সোহেল তাজ শেখ হাসিনাকে এক মাস সময় দিয়েছিলেন, কিন্তু কোন সুবিচার পাননি। সেজন্য বাধ্য হয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। অনেক চেষ্টা–তদবির করেও শেখ হাসিনা সোহেল তাজের পদত্যাগ প্রত্যাহার করাতে পারেননি। উপরে উল্লিখিত লুটপাটতন্ত্র কায়েমের সূচনা করার নির্দেশনামা শেখ হাসিনার সাড়ে পনেরো বছরের শাসনামলে কত নিষ্ঠুরভাবে প্রতিপালিত হয়েছিল সেটা স্বৈরশাসক হাসিনার সরকার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়ার পরের পৌনে দু’বছরে সারা দুনিয়া জেনে গেছে। ঐ লুটপাটতন্ত্রের বড়সড় নজির হিসেবে মেগা–প্রকল্পগুলো উন্নয়নের নামে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার পুঁজি লুন্ঠনের ব্যাপারটি জাতিকে জানান্ দিয়ে চলেছে বললে অত্যুক্তি হবে না। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনের পর এদেশে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিন–তিনটি প্রহসনমূলক ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার ব্যবস্থা করেছিলেন শেখ হাসিনা। দুঃখজনক সত্য হলো, ১৯৯৬ সালে পাশ হওয়া সংবিধানের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ২০১১ সালে বিলোপের মাধ্যমে হাসিনা দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে ভারত যদ্দিন তাঁর সরকারের উপর খুশি থাকবে এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তদ্দিন কেউ তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান যে সংঘটিত হতে পারে সেটা পতনের একদিন আগেও উপলব্ধি করতে পারেননি তিনি। সেজন্যই তিনি ছাত্র–ছাত্রীদের কোটা–বিরোধী আন্দোলনকে সরকার–পতনের সংগ্রামে রূপান্তরিত করার বোকামি করেছিলেন হয়তোবা! তাঁর ‘রাজাকারের নাতি–পুতি’ সংক্রান্ত বেফাঁস মন্তব্যটি এর প্রমাণ! এখন প্রমাণিত হয়েছে, সেনাবাহিনী যখন ৩ আগস্ট তারিখের দরবার থেকে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল যে তারা আন্দোলনকারী জনগণের উপর গুলি চালাবে না তখনই শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। জনগণ ৫ আগস্ট তারিখে ঢাকার মহাসড়কগুলোতে মিছিলে নেমে পড়তে এবং গণভবন আক্রমণ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল সামরিক বাহিনীর গুলি না চালানোর এহেন ঘোষণায়। ঐ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জামায়াত–শিবিরের গুপ্ত–সুপ্ত ক্যাডাররা সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা দেশ থেকে তাদের বিশাল সমর্থক ও কর্মী বাহিনীকে ঢাকায় নিয়ে আসে এবং ৬ আগস্টে নির্ধারিত সরকার–পতনের কর্মসূচিকে একদিন এগিয়ে নিয়ে এসে ৫ আগস্ট ঢাকায় গণ–অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়। শুধু পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রলীগ–যুবলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদেরকে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে কয়েক’শ মানুষকে হত্যা করেও হাসিনা শেষরক্ষা করতে পারেননি, দেশ থেকে ভারতে পালানোর মাধ্যমে নিজের প্রাণরক্ষা করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতন ক্ষমতায় নিয়ে আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা জামায়াত–শিবিরের সক্রিয় কর্মী ও সমর্থকদের। ক্ষমতায় এসেই তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালানো শুরু করে দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ আখ্যা দিয়ে তারা বলতে থাকে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা নাকি অর্জিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে তারা অভিহিত করে ‘দুই ভাইয়ের ঝগড়া’। সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্যগুলো ভাঙচুরের শিকার হয়, বঙ্গবন্ধুর সকল ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর বাড়িটিকে কয়েক দফায় আক্রমণ চালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়, এবং তার স্থলে নূতন সংবিধান প্রণয়নের জন্য সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হলো ‘স্বাধীন বাংলাদেশের মা’। মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই এখনো বেঁচে আছেন। দেশের জনসংখ্যার পঁচান্নব্বই শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘের কুলাঙ্গাররাই শুধু নরঘাতক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘাতক–দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। অতএব, জামায়াত–শিবিরের স্বাধীনতা–বিরোধী ক্যাডারদের বর্তমান অপতৎপরতা কখনোই সফল হবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তাঁর ঐতিহাসিক নেতৃত্বেই জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। অতএব, তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ রুখে দাঁড়াবেই। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নানা ভুলত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপিতার’ আসন থেকে সরিয়ে ফেলা যাবে না। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন একান্তভাবেই হাসিনার অপকীর্তি, সেজন্য বঙ্গবন্ধুকে দায়ী করা যাবে না। শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গণতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও সেটা কখনোই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি, স্বাধীন বাংলাদেশে একমাত্র বহুদলীয় গণতন্ত্রই সবার কাছে অভীষ্ট শাসন–ব্যবস্থা। তাই, তাঁকে উৎখাত করেছে জনগণ। কিন্তু, হাসিনার অপরাধে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে হবে কেন? মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হবে কেন?
লেখক : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়












