রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিললেও উৎপাদনে যাওয়ার আগে আরও কয়েকটি পরীক্ষা সারতে হবে। এসব পরীক্ষায় সফল হলে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে চুল্লির শক্তি। এরপর পর্যাপ্ত বাষ্প তৈরি করে টারবাইন চালানোর মাধ্যমে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে তিন শতাধিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটকে বি–১ থেকে বি–২ পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এ অনুমোদনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পরবর্তী প্রস্তুতি নিতে পারবে। তবে অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এখনই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া নয়। খবর বিডিনিউজের।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রথমে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হবে। পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর আরও কয়েকটি পরীক্ষা করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ পর্যায়ে যাবে। এ পর্যায়ে চুল্লির শক্তি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
জাহেদুল হাছান বলেন, আমরা পাওয়ার রেজ করব স্টেপ বাই স্টেপ। পাওয়ার রেজ করতে করতে যখন আমরা ৩৭ শতাংশ পাওয়ারে যাব, তখন আমরা স্টিম যেটা তৈরি করতে পারব, সেই স্টিম দিয়ে আমরা টারবাইন ঘোরাতে পারব। আর টারবাইন ঘোরাতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। তবে চুল্লির শক্তি বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করলেও তা সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে না। এজন্য গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
আট সপ্তাহের কাজ দশ সপ্তাহেও গড়াতে পারে : জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ কবে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাতে চাননি এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিরাপত্তার কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয় বলে কোনো পরীক্ষা শেষ করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। কোনো পরীক্ষা দুই দিনে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই থেকে তিন দিন লাগতে পারে। আবার দশ দিনের কাজ আট দিনেও শেষ হতে পারে। এভাবে বিভিন্ন পরীক্ষায় বাড়তি সময় লাগলে পুরো প্রক্রিয়া ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
জাহেদুল হাছান বলেন, বিষয় হলো এরকম যে আপনি দিতেছেন ৮ সপ্তাহের কাজ, ১০ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, দুই সপ্তাহ বেশি লাগতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও চালুর অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে রূপপুরের বিলম্বকে যৌক্তিক মনে করছেন তিনি। তবে এই বিলম্বের অর্থ দুই মাসের কাজ শেষ করতে দুই বছর লেগে যাওয়া নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।











