রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সড়কে গত ২২ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিন ধরে অবরোধ কর্মসূচি চলার পর ১ নভেম্বর একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু এদিন খাগড়াছড়ি পরিবহন খাতের সকল মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটের কারণে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
এদিকে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও সাজেক এলাকায় ঘন্টাব্যাপী জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে, গত ৩০ অক্টোবর রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন জানায়, সাজেক এলাকার সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় ১ নভেম্বর (রোববার) একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল থাকবে। এর পরে পূর্বের ন্যায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, পরিবহন খাতের সকল মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটের কারণে রোববার সকাল ছয়টা থেকে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা, মারিশ্যা, সাজেক ও লংগদু সড়কে যানচলাচল বন্ধ ছিল। সকালে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের সুপারী বাগান এলাকাসহ সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ধর্মঘট পালন করেছে পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিকরা।
খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা বাস স্টেশনের লাইনম্যান স্বপন চাকমা বলেন, পরিবহন খাতের সকলে মিলে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা এবং দীঘিনালা থেকে মারিশ্যা ও সাজেক সড়কে সকাল ৬টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সকাল-সন্ধ্যা এই ধর্মঘট ডাকা ডাকা হয়েছিল। সোমবার থেকে যান চলাচল করবে। মূলত একদিনের জন্য সাজেক খুলে না দিয়ে স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতেই এই পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
বাঘাইহাট-সাজেক স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম বলেন, পরিবহনখাতে নিয়োজিতরা ধর্মঘট ডাকার কারণে সাজেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাজেক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমা বলেন, ‘সাজেকে গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন নামে দু’টি সংগঠন একদিনের অবরোধ শিথিল করলেও পরিবহন সেক্টরের ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সাজেকে ফের জেএসএস-ইউপিডিএফ বন্দুকযুদ্ধ:
শনিবারের পর রোববারও নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেকে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) মধ্যে ঘন্টাব্যাপী থেমে থেমে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবরে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের লাঙলমারা এলাকায় ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন। এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের কলাবুনিয়া এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ঘটনা ঘটেছে।
ভাইবোনছড়া এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোববার বিকেলে লাঙ্গল-মারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কেউ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে বিকেলে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাজেকের লাঙ্গল মারা এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলি ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, কোনো গোলাগুলির খবর আমি এখনো পাইনি। জেএসএস এসব গোলাগুলিতে থাকার প্রশ্ন আসে না।
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, ইউপিডিএফ বন্দুকযুদ্ধে জড়িত থাকার কথা প্রশ্নই আসে না। ইউপিডিএফের কোনো সশস্ত্র সংগঠন নেই, ইউপিডিএফ গনতান্ত্রিক একটি সংগঠন। কারণ ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সংগঠন বলেই জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করে আসছে।












