৭০টি ইঞ্জিন তিন বছর রক্ষণাবেক্ষণে ৬৮০ কোটি টাকার চুক্তি করবে রেলওয়ে

পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল

শুকলাল দাশ | রবিবার , ১ নভেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমের কাছ থেকে কেনা ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং পশ্চিমাঞ্চলের ৪০টি লোকোমোটিভ নিয়মিত সচল রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৬৮০ কোটি টাকায় একটি চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। রেলওয়ের মেকানিক্যাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, এই চুক্তির আওতায় আগামী ৩ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান প্রগ্রেস রেল পূর্বাঞ্চলের ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ও পশ্চিমাঞ্চলের ৪০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও কারিগরি সহায়তা দেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর অর্থ বিভাগসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার অনুমোদনের জন্য পাঠাতে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী ডিজেল ওয়ার্কশপের সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক প্রকৌশলী জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পূর্বাঞ্চলের জন্য হুন্দাই রোটেম থেকে দুই দফায় ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনে রেলওয়ে। প্রথম দফায় ২০১৮ সালে ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ১০টি এবং ২০১৯ সালের চুক্তিতে ৬৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকায় আরও ২০টি ইঞ্জিন কেনা হয়।

হুন্দাই রোটেমের কাছ থেকে কেনা ৩০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ১৮টি চার বছরের মধ্যে অচল হয়ে পড়েছে। অথচ ইঞ্জিনগুলো ২০ বছর চলার কথা ছিল।

রেলওয়ের মেকানিক্যাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রগ্রেস রেল তিন বছর ধরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা দেবে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেশ ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে এই সেবা সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিত ইঞ্জিন সচল এবং রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি কার্যকর হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের ৭০টি ইঞ্জিনে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন এবং মালবাহী ট্রেন চলাচলে গতি আসবে। ৭০টি ইঞ্জিন নিয়মিত সচল রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে তিন বছরের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে রেলওয়ের দিতে হবে ৬৮০ কোটি টাকা।

রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব এবং হুন্দাই রোটেমের কারিগরি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালে কোম্পানিটির কারিগরি সহায়তা শেষ হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬