রাউজানে আত্মীয়ের জানাজা শেষে ফেরার পথে চাঁদের গাড়ির চাপায় ক্ষতবিক্ষত শিশুসহ ৫ জন

রাউজান প্রতিনিধি | শনিবার , ১০ অক্টোবর, ২০২৬ at ১১:২০ অপরাহ্ণ

মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে রাঙামাটির তবলছড়ি থেকে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন মুহাম্মদ হাবিব ও তাঁর পরিবার। স্বজন হারানো মনটা ছিল ভারাক্রান্ত—মামা শ্বশুর নুরুল ইসলাম স্বপনকে শেষবিদায় জানিয়ে গন্তব্য ছিল নগরীর অক্সিজেন পাঠান পাড়ার বাসা।

দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ঘোরাতে বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের রাউজান পৌরসভার চৌধুরী ঘাটা এলাকায় গাড়ি থামান তারা। উদ্দেশ্য মনছুরের দোকানের সুপরিচিত গরুর দুধের এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা খাওয়া।

হাবিব, তাঁর শ্যালক শরীফ এবং সিএনজি চালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাস্তার পাশের মনছুরের দোকানে প্রবেশ করেন চা আনতে। আর ক্লান্তির কারণে সিএনজি অটোরিকশাটির ভেতরেই বসে অপেক্ষা করছিলেন হাবিবের স্ত্রী তানিয়া আকতার, তাঁর পাঁচ বছরের ছোট্ট ছেলে জিহাদ এবং সাথে থাকা আত্মীয় সেলিনা আকতার ও তাঁর দুই সন্তান আবদুল্লাহ (২১) ও তাবাচ্ছুম (৮)।

চা খাওয়ার এই সামান্য বিরতিই যে আক্ষরিক অর্থে এক বিভীষিকা হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

স্বজনদের জন্য চা নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার আগেই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। চৌধুরী ঘাটার ব্যারিস্টার সুরেশ বিদ্যায়তন সংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায় একটি দ্রুতগামী ইটবাহী ‘চাঁদের গাড়ি’। ব্রেক করতেই উল্টে পড়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সিএনজিটির ওপর!

মুহূর্তের মধ্যে ইটের বিশাল স্তূপ আর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া সিএনজির নিচে চাপা পড়ে যান ভেতরে থাকা ছোট্ট শিশুসহ নারীরা। চিৎকার আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চৌধুরী ঘাটার বাতাস। চোখের সামনে নিজের পরিবারকে ইটের নিচে পিষ্ট হতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যান হাবিব।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে ইটের স্তূপ ও সিএনজির ভেতর থেকে এক এক করে উদ্ধার করেন মারাত্মক রক্তাত অবস্থায় আটকে থাকা পাঁচজনকে। তড়িঘড়ি করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় গহিরা জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসক জানান, সেলিনা আকতার (৪৫), তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ (২১) ও আট বছরের শিশু তাবাচ্ছুমের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শরীরে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাঁদের দ্রুত স্থানান্তর করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। তাঁরা জীবনের সাথে লড়াই করছেন।

অন্যদিকে হাবিবের স্ত্রী তানিয়া ও শিশু পুত্র জিহাদ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এক কাপ চায়ের তৃষ্ণা মিটিয়ে বাড়ি ফেরার পথটা এভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার আর জরুরি বিভাগের করিডোরে গিয়ে থমকে দাঁড়াবে—তা ভেবে এখনো শিউরে উঠছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

চালকের বেপরোয়া গতি আর ইটবাহী চাঁদের গাড়ির থাবায় রক্তাত অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। রাউজান হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক শাহাজাহান বলেন, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজানা গেল ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ