যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় এ বছর ৯ শতাধিক মানুষ নিহত

| বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও এ বছর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমনটি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩০০ জনেরও বেশিতে, যার মধ্যে ৩০১ জনই শিশু। খবর বিডিনিউজের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার পর ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়। সেই শান্তি চুক্তি পরিকল্পনায় বিমান থেকে বোমাবর্ষণ এবং কামান দিয়ে আক্রমণ করার মতো সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল। তারপর থেকে, বিবিসি ভেরিফাই ডজন খানেক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে, যাতে দেখা গেছে ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ। এর মধ্যে ছিল গাজার সৈকত তীরবর্তী একটি ক্যাফেসহ বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবু এবং একটি জানাজার মিছিলও।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রতি কয়েকমাস ছিল প্রাণঘাতী, যেখানে এপ্রিল থেকে অগাস্টের মধ্যে প্রতি মাসে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে দায়ী করেছে। তবে এই মৃতের সংখ্যায় বেসামরিক নাগরিক এবং যোদ্ধাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হয়নি।

জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য মনে করে এবং বিশেষজ্ঞরা বিবিসি ভেরিফাইকে বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন বিশ্লেষণ এই তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তবে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা বিবিসি ভেরিফাইকে জানিয়েছে, তালিকায় থাকা সবাই আইডিএফএর অভিযানের কারণে নিহত হয়েছে এমন ধরে নেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই। ইসরায়েলের দাবি, হুমকি দূর করতে ও নিজেদের সেনা এবং ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।

এ বছরের শুরুতে ইসরায়েলের গণমাধ্যম প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, গাজা যুদ্ধে ৭০,০০০এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২০,০০০এরও বেশি যোদ্ধা ছিল বলে জানানো হয়েছে। গত বছর ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়া থেকে ঐ মাসের শেষ পর্যন্ত, হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৫১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করেছে। তারপর থেকে প্রতি মাসেই মারাত্মক ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছিল জুলাই মাসে, যখন ২১ জন শিশুসহ ১৫২ জন নিহত হয়। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘এসিএলইডি’ জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েল প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে। ফলে হামাসের সদস্য বা অন্যান্য সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধহালিশহরে বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার