ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। সামপ্রতিক সময়ে দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাইক আরোহীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত তিন মাসে মীরসরাই অঞ্চলেই নিহত হয়েছেন ১৫ বাইক আরোহী। মহাসড়কের পাশাপাশি সমপ্রতি অর্থনৈতিক জোন সড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। গত ২৮ আগস্ট ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের অদূরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কের বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু তালাত মাহমুদ শুভ (১৯) ও আব্দুল্লাহ আল–ওমর (১৯) প্রাণ হারান। গত ২ আগস্ট জোরারগঞ্জের চৌধুরীহাট এলাকার পুরাতন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোটরসাইকেলে বারইয়াহাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মঘাদিয়ার খতিব জহির উদ্দিন (৪২) ও মুয়াজ্জিন জয়নাল আবেদিন (৩৮)। মাছবাহী ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
গত ২১ আগস্ট দুপুরে মিঠাছরা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন মনজুর আলম (৫৫)। মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। গত ৫ জুলাই মীরসরাইয়ের অর্থনৈতিক জোন সড়কের আবুতোরাব এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন মীরসরাই উপজেলা আনসার কর্মকর্তা আলাউদ্দিন (৩৮)। ৭ জুলাই ফেনী টিচার্স ইনস্টিটিউটের ছাত্রী ও বাইক আরোহী শ্রুতি পাল (২২) মীরসরাইয়ের বাইপাসে নিহত হন। দেখা গেছে, গত দেড় মাসে শুধু মীরসরাই উপজেলায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন ১২ জন।
বাইক আরোহী শিক্ষক নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা সকলের অবস্থানে সচেতন নই বলেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। অনেকেই হেলমেট ব্যবহার করছেন না। ভালো প্রশিক্ষণ ছাড়াই সড়কে উঠে যাচ্ছেন। তবে অর্থনৈতিক জোনসহ মীরসরাই উপজেলার কিছু পয়েন্টে আরও ব্যাপক তৎপরতা প্রয়োজন।
বাইক আরোহীদের এমন মৃত্যুর মিছিল বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুজ্জামান বলেন, মহাসড়কসহ সর্বত্র অদক্ষ বাইক আরোহীরা বেপরোয়া গতিসহ নিয়ম–শৃঙ্খলা না মানার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সড়কের সকল পয়েন্টে আইন প্রয়োগের তৎপরতা বৃদ্ধিতে।
এ বিষয়ে মীরসরাই কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, আমরা সবাই নিরাপদ সড়ক চাই, আবার নিয়ম ভাঙিও সবাই। মহাসড়কে কিছু অপ্রয়োজনীয় যানবাহন, থ্রি–হুইলার, সিএনজি, বটবটি, রিকশা অবলীলায় এখনো চলাচল করতে দেখি। সরকার এগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সবাই সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক অবস্থানে না ফিরলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কসহ সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামী দিনে আমরা মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উদ্যোগ গ্রহণ করব। এরপরও সকলের শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।











