গত ৫ সেপ্টেম্বর মীরসরাই উপজেলার মুহুরী প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এরপর প্রায় একমাস পার হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ওই এলাকাটি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তীব্র গরমে অতিষ্ট হয়ে ক্ষোভ ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন তারা। এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রান্সফরমারটি দ্বিতীয়বার চুরি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমারের পূর্ণমূল্য গ্রাহকদের বহন করতে হবে।
জানা গেছে, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ২৫ কেভির একটি ট্রান্সফরমার মিটার গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে চুরি হয়ে যায়। এর ফলে পাশের আলহাজ্ব বদিউল আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদে জাহানারা এবং পাশের বাসিন্দাদের বসতঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল পর্যন্ত উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্ট সড়কের পাশে নন্দনপুর ও দেওয়ানপুর এলাকার মাঝামাঝি ওই এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী উম্মে নাহার জানান, স্কুলের সংযোগকৃত বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর থেকে স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ফলে তীব্র গরমে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা খুব কষ্টে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছি। অনেক শিক্ষার্থী গরমের কারণে স্কুলে আসছে না। দ্রুত যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রান্সফরমারটি সংযুক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া বলেন, ট্রান্সফরমারটি চুরি হওয়ায় আমরা মসজিদে শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারছি না। এছাড়া সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে বাড়িতে গরমের কারণে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারছি না। ছোট ছোট ছেলে–মেয়েরা শান্তিতে ঘুমাতে ও লেখাপড়া করতে পারছে না। আমি একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছি। তারা ২৫ কেভির ট্রান্সফরমারের জন্য যে পরিমাণ টাকা চাচ্ছে, এত টাকা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ওখানের ওই ট্রান্সফরমারটি দ্বিতীয়বার চুরি হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমারের পূর্ণমূল্য ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা গ্রাহকদের বহন করতে হবে। এর মধ্যে একটি বহুতল ভবন নির্মাণকারী এবং সামর্থবান ব্যক্তিও রয়েছেন। উনারা এগিয়ে এলে বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা বিচ্ছিন্নভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের ট্রান্সফরমারের টাকার কথা বলেছি। কিন্তু তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে এটা এখনো সমাধান হয়নি। আমরা অফিসিয়ালভাবে তাদেরকে চিঠি ইস্যু করেছি এবং সমন্বয়ের চেষ্টা করছি।












