অবশেষে নগরের খাল ও নালা পরিষ্কারে বরাদ্দকৃত সেই ৪৫ কোটি টাকা ছাড় করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এতে অর্থ সংকট দূর হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। এ অবস্থায় খাল–নালা থেকে বর্জ্য অপসারণে মাঠ নামছে সংস্থাটি। আগামী বর্ষাকে সামনে রেখে শহরের ৪১ ওয়ার্ডে বিদ্যমান ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার নালা থেকে মাটি ও বর্জ্য অপসারণ করবে চসিক। প্রতিদিন তিনটি স্পটে একযোগে চলবে এ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম। প্রতিটি স্পটে অংশ নেবেন ৩০ থেকে ৩৫ জন পরিচ্ছন্ন শ্রমিক। একইসঙ্গে ঠিকাদারের মাধ্যমে বড় আকৃতির খাল–নালাগুলো পরিষ্কার করা হবে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, খালা–নালা পরিষ্কারে গৃহীত মাসব্যাপি এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আজ রোববার। নগরের জামালখান লিচু বাগান এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। জানা গেছে, চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন সুপারভাইজাররা সমন্বয় করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। একইসঙ্গে পুরো কার্যক্রম তদারকিতে দায়িত্ব পালন করবেন ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে আগামী বর্ষায় নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে চসিকের গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। একইসঙ্গে খাল–নালা পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম যেন আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে সে দাবিও করেছেন তারা। নগরবাসী বলছেন, গত ১৬ মার্চ নগরের উত্তর কাট্টলীর ইশান মহাজন রোড কালী বাড়ি এলাকায় ছমিউত আলী খাল ও এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি খুলশী লেকসিটি আবাসিক এলাকার কৈবল্যধামের পেছনে কালির ছড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেয়র। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই ওই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আজ থেকে শুরু হওয়া খাল–নালা পরিষ্কার কার্যক্রমও যেন গতি না হারায় সেদিকে চসিকের দায়িত্বশীলদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
ছাড় হয়েছে সেই ৪৫ কোটি টাকা :
চসিকের আওতাধীন এলাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও ড্রেন থেকে মাটি উত্তোলনের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে গত ৩১ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনে পত্র পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। পরদিন ১ এপ্রিল সেটা অনুমোদন করে পরিকল্পনা কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরুলেও সে অর্থ ছাড় করেনি স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক আজাদীতে ‘৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিল অর্থ মন্ত্রণালয়, আটকে আছে স্থানীয় সরকার বিভাগে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর অর্থ আটকে থাকার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম একই বিভাগের চিফ একাইন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসরকে অর্থ অবমুক্তির জন্য দাপ্তরিক পত্র দেন। ওই পত্র সূত্রে জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন সহায়তা খাত থেকে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে দুটি প্রকল্পের আওতায় এ ৪৫ কোটি ছাড় দেয়া হয়। এর মধ্যে ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আনুমানিক এক কোটি ঘনফুট মাটি–আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণ’ প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি টাকা এবং চসিকের অধীনস্থ প্রায় ১৬শ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার, ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণ’ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২০ কোটি টাকা।
অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আজাদীকে নিশ্চিত করে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, ১৬শ কিলোমিটার নালা পরিষ্কারের জন্য ২০ কোটি টাকা খুবই সামান্য। তারপরও আমরা কাজ শুরু করব। রাজস্ব খাত থেকে খরচ করব। ড্রেনেজ সিস্টেমে প্রাইমারি নালাগুলো যত বেশি পরিষ্কার করা যাবে তত রেজাল্ট পাব। নালাগুলো পরিষ্কার না থাকলে পানি খালে যেতে পারবে না। কাজেই নালা পরিষ্কারে আমরা জোর দিচ্ছি। তিনি বলেন, ৩০০ ফুটের উপরে যে খালগুলো আছে সেগুলো দরপত্র আহবান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত পরিষ্কার করব। আশা করছি গতবারের মত এবারও ভালো রেজাল্ট পাব। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে মানুষ।
এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, গতবছর আগ্রাবাদের বঙ কার্লভাট আমরা নৌ–বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিষ্কার করিয়েছিলাম। এ বছরও যেসব খালে আমাদের নরমাল টেকনোলজি দিয়ে খনন করা সম্ভব হবে না সেগুলোতে নৌ–বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।
এর আগে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা পেলে তা ব্যয় করা হবে ছোট নালা পরিষ্কারে। এক্ষেত্রে অন্তত ৫০০টি নালা পরিষ্কারের পরিকল্পনা করে সংস্থাটি।
চসিকের উপ–প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা আজাদীকে বলেন, প্রতিদিন তিনটি স্পটে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালানোর জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিটি স্পটে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করবেন। শুরুতে জলাবদ্ধতা বেশি হয় এমন ওয়ার্ডগুলোতে কার্যক্রম চালানো হবে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (সিডিএ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্ষাকে সামনে রেখে নগরের ৪৭টি খাল–নালা থেকে ১৪ লক্ষ ১০ হাজার ৬১০ ঘনফুট ফুট মাটি উত্তোলন করবে চসিক। যার দৈর্ঘ্য ২০ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে এ খনন কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এখন অর্থ ছাড় হওয়ায় সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।














