ঢাকের বাদ্য, চন্ডীপাঠ আর শঙ্খধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে আবাহনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে শুভ মহালয়া। গতকাল ভোর থেকে করলডেঙ্গা চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমে, নগরীর জেএমসেন হলে এবং বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শাস্ত্রাচারে দেবীপক্ষের শুভ সূচনা পবিত্র মহালয়া উদযাপন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ–চট্টগ্রাম জেলা শাখা ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ, দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও গোলপাহাড় কালী মন্দির। একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা।
গতকাল ভোরে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে মেধস আশ্রমে মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন আশ্রমের অধ্যক্ষ ও সেবায়েত শ্রীমৎ দীপানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ : চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যেগে প্রতিবছর ন্যায় এবছরও নগরীর জেএমসেন হলে সকাল থেকে দেবী বন্দনায় চণ্ডীপাঠ ও শঙ্খের ধ্বনিতে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। জেএমসেন হলে মহালয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করলেও এত বড় পরিসরে মহালয়ার আয়োজন দেখার সুযোগ তার আগে হয়নি। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে এই আয়োজন তাকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা। বিভিন্ন ধর্ম ও সমপ্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের গর্ব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হবে।
পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এড. নিখিল কুমার নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল, পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি এড.চন্দন কুমার তালুকদার, বিদ্যালাল শীল, কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বারণ বিশ্বাস, সহ সভাপতি শ্রী প্রকাশ দাশ অসীত, বিপ্লব চৌধুরী, যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সেন, এড. নটু চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটূ, সাংগঠিক সম্পাদক অঞ্জন দত্ত, সম্পাদক মন্ডলী সদস্য এড.তপন দাশ, প্রিয়তোশ ঘোষ তপন দিপংকর দেবনাথ, প্রমুখ।
চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রম : গতকাল শনিবার বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শাস্ত্রাচারে দেবীপক্ষের শুভ সূচনা পবিত্র মহালয়া উদযাপন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ–চট্টগ্রাম জেলা শাখা। সকাল ৮ টায় আন্দরকিল্লা চত্বর থেকে চন্ডী তীর্থ মেধস আশ্রমে যাত্রাকালে পূণ্যার্থীসহ মাঙ্গলিক কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত।
বেলা ১২ টায় মা দশভূজার নিকট সমবেত প্রার্থনা, পুস্পাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। চন্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমে মহালয়ার উদ্বোধন করেন– বাঁশখালী জলদী কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী অদ্বৈতানন্দ ঋষি মঠ ও মিশনের উপাধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রামানন্দ পুরী মহারাজ, পাঁচলাইশ আদর্শপাড়া শ্রীশ্রী মা সন্তোষী ও লোকনাথ সেবাশ্রমের উপাধ্যক্ষ বেনু মহারাজ ও চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ দীপানন্দ মহারাজ। বক্তব্য রাখেন– চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন, যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালিত, কল্লোল সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিমন মুহুরী, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক শিপুল দে, অর্থ সম্পাদক দীপক তালুকদার, রুনু ভট্টাচার্য্য, মধুসূদন চক্রবর্ত্তী, বিকাশ মজুমদার, প্রমুখ।
দক্ষিণ জেলা পরিষদের মহালয়া উদযাপন : চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দেবীপক্ষের শুভ মহালয়া অনুষ্ঠান গতকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গা চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক, বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন, আহলা–কড়লডেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ঝুন্টু চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রুবেল দেব, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সন্তোষ রঞ্জন দাশগুপ্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দে, যুগ্ম সম্পাদক আশীষ মিত্র, সাংগঠনিক সম্পাদক হারাধন দাশ, রাজিব সেন, জুয়েল দাশ মাধায়, চন্দ্রনাথ রাসেল চৌধুরী, যাদব সরদার, ইঞ্জিনিয়ার রঘুনাথ চৌধুরী, বোয়ালখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন শীল, সাধারণ সম্পাদক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি, প্রমুখ।
গোলপাহাড় কালী মন্দির : গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও মন্দির পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে মহালয়া দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল সমবেত গীতাপাঠ, মহিষাসুরমর্দিনী, শাস্ত্রীয় সংগীত, নৃত্যানুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ আস্বাদন, চণ্ডী পরিক্রমা ও মাতৃ সংগীত, নৃত্যনাট্য, মহালয়া অমাবস্যা পূজা। পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উৎপল সেনের পরিচালনায় ভোর হতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় চণ্ডীপাঠ করেন প্রখ্যাত চণ্ডীপাঠক অধ্যাপক জয় প্রকাশ দে।












