ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণায় খণ্ডিত বিএমডব্লিউ রেসিং কার আমদানি

পাওয়া গেছে পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাকও

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণায় কাটা বা গাড়ির খণ্ডিত অংশ আমদানির ঘটনা উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত মঙ্গলবার একটি সন্দেহভাজন পণ্যচালানের কায়িক পরীক্ষা করে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের বড় ধরনের অসামাঞ্জস্য পাওয়া যায়। চালানটিতে ব্যবহৃত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হলেও পরীক্ষায় খণ্ডিত অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার, একটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ এবং পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাক পাওয়া গেছে। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

এনবিআর জানায়, বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অর্ধাংশ বা খণ্ডিত সামনের অংশ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০১৬ সালের মডেল এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। বিশেষভাবে সন্দেহজনক বিষয় হলো, চালানটিতে গাড়িটির শুধু সামনের অংশ পাওয়া গেছে। এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে বা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, চালানটিতে পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাকও পাওয়া যায়। প্রতিটি ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।

ঘোষিত পণ্য এবং কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের ধরন ও অবস্থার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। ঘোষণায় কারচুপি, শুল্ক–কর ফাঁকি এবং খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে পরে পুনরায় সংযোজনের কোনো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না– এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই’র বাকি অর্ধাংশ কোথায়, সেটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলোর বিস্তারিত তালিকা, চেসিস ও ভিআইএন, ইঞ্জিনের তথ্য, প্রকৃত মূল্য এবং প্রযোজ্য আমদানি নীতি ও শুল্ক–কর যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির চেষ্টা শনাক্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এনবিআর জানিয়েছে, চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নগরীর হালিশহর সরাইপাড়ার পিসি রোড গ্রীণ ভিউ এলাকার মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল। চালানটি খালাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান ছিল নগরীর ডবলমুরিং এলাকার আমিন ভবনের আমিন সিএন্ডএফ প্রাইভেট লিমিটেড। চালানটির রপ্তানিকারক সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি। কায়িক পরীক্ষায় প্রথমে খণ্ডিত অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’, ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি এবং এটি ২০০৯ সালের মডেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গাড়িটির সঠিক মডেল সাল, চেসিস নম্বর, ভিআইএন এবং আমদানির বৈধতা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধব্যাংক ঘেরাওয়ের মুখে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ
পরবর্তী নিবন্ধখুলশী থানার ওসিকে পুনরায় সিটি এসবিতে পদায়ন