সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ পাটকল আমিন জুট মিলের বেহাত হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ৪০ বছর পর বেহাত হওয়া মিলের ১৮ শতকেরও বেশি ভূমি থেকে দখলদার উচ্ছেদ করে দখল নিশ্চিত করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। এ ভূমির মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।
সূত্র জানিয়েছে, মিল কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে বেদখল হওয়া এই বিপুল পরিমাণ জায়গা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অন্যতম বৃহৎ কারখানা ছিল আমিন জুট মিলস। ১৯৫৪ সালে নগরীর মুরাদপুর এলাকার হাটহাজারী রোড সংলগ্ন ৭৯ একর জায়গার উপর গড়ে তোলা হয়েছিল বিশাল এই মিলটি। ১৬৬ হেসিয়ান, ২৭৫ সেকিং, ৩৩ সিবিসি ও ১ হাজার ৩৪৪ অন্যান্য লুম নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল এই পাটকল। কারখানাটিতে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এর মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৮৫ মেট্রিক টন হেসিয়ান, ৯৯৩ মেট্রিক টন সেকিং, ৭২ মেট্রিক টন সিবিসি ও ১৪৪ মেট্রিক টন অন্যান্য লুম। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে এই মিল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মিলটি বন্ধ হলেও এটির সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি নানাভাবে বেহাত হতে থাকে। বিগত ৩০/৪০ বছর ধরে চলে আসা অবৈধ এই কর্মকাণ্ডে কখনো মিলের প্রশাসন, কখনো কারখানার সিবিএ ভূমি বেহাতে সহায়তা করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বহিরাগত ভূমিদস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে অতি মূল্যবান এই ভূমির উপর। তারা নানাভাবে জায়গা দখল করে বাড়িঘরের পাশাপাশি দোকানপাট নির্মাণ করে। গড়ে তোলা হয়েছে গুদামসহ বাণিজ্যিক স্থাপনা। এখানে চাকরি করতে আসা মিল প্রশাসনের অনেকেই অহেতুক ঝামেলায় জড়াতেন না। কেউ কেউ ভয় পেতেন। ফলে ভূমিদস্যুরা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠে।
অবশেষে সাম্প্রতিক সময়ে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মিলের প্রশাসন অবৈধ দখলে থাকা সম্পত্তি উদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় আমিন জুট মিল গেটের পাশের পেট্রোল পাম্পসহ সন্নিহিত এলাকায় রাস্তার লাগোয়া প্রায় সাড়ে ১৮ শতক ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর পর বেহাত হয়ে থাকা জায়গাটি উদ্ধার করে সম্প্রতি মিল কর্তৃপক্ষ সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে।
মিলের এক কর্মকর্তা দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে জানান, এ জমি বহুদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল ভূমিদস্যুরা। মিলের পক্ষ হতে তাদেরকে দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য দফায় দফায় বলা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো নানা রাজনৈতিক পরিচয়ে হুমকি ধমিক দিতে থাকে। শাসানো হয়েছে যে এই জায়গা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ট্রান্সফার করিয়ে দেয়া হবে। অবশেষে কর্তৃপক্ষ সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের এ জমি উদ্ধার করে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
মিলের প্রকল্প প্রধান এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, আমিন জুট মিল শহরের মাঝে অবস্থিত। অত্যন্ত মূল্যবান জায়গা। মিলটির চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় ভূমিদস্যুরা প্রতিনিয়ত মিলের জমি দখলের চেষ্টা করে। মিলের গেটের পাশের এ জমিও বহুদিন বেহাত হয়ে ছিল। আমরা অভিযান চালিয়ে উক্ত জমিসহ বেশ কিছু জমি হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছি। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মিলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের প্রচেষ্টায় উক্ত ভূমিতে মিলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত জায়গাটিতে ৬ টি গোডাউন ও ২টি দোকান রয়েছে। এগুলো বিজেএমসির অনুমোদনক্রমে স্থানীয় দরপত্র আহ্বান করে মিলের ব্যবস্থাপনায় ভাড়া প্রদান করা হয়েছে। এখন এখান থেকে মিলের নিয়মিত আয় হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সার্ভে করে আরো যেসব জায়গা বেদখল হয়ে আছে তা শীঘ্রই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসব।














