বেতাগীতে মধ্যরাতে আগুন, পুড়ল ৫টি বসতঘর

রাঙ্গুনিয়ায় পরপর অগ্নিকাণ্ড, সতর্ক থাকার পরামর্শ ফায়ার সার্ভিসের

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে ৫টি কাঁচা বসতঘর। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মধ্যম বেতাগী মাইজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।

ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের সাবঅফিসার মো. জসিম উদ্দিন জানান, আগুনে একাধিক কক্ষ বিশিষ্ট ৫টি কাঁচা বসতঘর সংযুক্ত রান্নাঘরসহ পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মো. আবু তাহের, আবু মোহাম্মদ, মো. ইব্রাহিম, মো ইসমাঈল ও মো ইসরাঈল। তাদের প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে রাঙ্গুনিয়ায় এক সপ্তাহ ধরে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কখনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, কখনো গ্যাসের চুলার আগুন, কখনো অজানা কারণে এসব অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের খুরশেদ তালুক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দুটি দোকান ও একটি বসতঘর পুড়ে যায়। ২৯ ডিসেম্বর একই ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম পালপাড়ায় ডা. রতন পালের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এটি নাশকতা দাবি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেঝে পুলিশ।

২৪ ডিসেম্বর পোমরা ইউনিয়নের কাদেরিয়াপাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে ৬টি বসতঘর পুড়ে যায়। এর একটি ঘরে দগ্ধ হয়ে মারা যায় দাদি ও নাতনি। এছাড়া ২২ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সিএনজি টেক্সি চালক মাহবুবুল আলমের বসতঘর পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান বলেন, শীতকালে সব ধরনের দাহ্যবস্তু শুকিয়ে যায়। শীতে বাতাসে জলকণা কম থাকে। যে কারণে ফায়ার জেনারেটিং ফিল্ড তৈরি হয়। ঠান্ডা ও কুয়াশা আগুন প্রতিরোধে কাজ করে না। এ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়ায়। এছাড়া শীতের সময় চুলা জ্বালিয়ে রাখা, মশার কয়েল ব্যবহার, লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানো, ধূমপান করাসহ নানা কারণে আগুন বেশি লাগে। তাই শীতসহ অন্তত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ৪ মাস সতর্ক ও সাবধান থাকলে আগুনের ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিরাজুল হক আজীবন আনজুমান, জামেয়া ও গাউসিয়া কমিটির খেদমত করে গেছেন
পরবর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ডা. রেজাউল করিম