চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে একটি প্রতারক চক্র। তবে শেষ মুহূর্তে সন্দেহ হওয়ায় তিনি টাকা পাঠাননি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটলেও গতকাল শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান ভুক্তভোগী বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাবেক সচিব) পংকজ দত্ত।
ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে তার মোবাইলে একটি ভুয়া বিকাশ এসএমএস পাঠানো হয়, যেখানে ২০ হাজার টাকা তার নম্বরে এসেছে বলে দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর কর্ণফুলী থানার ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, ভুলবশত সরকারি কোষাগারের ২০ হাজার টাকা তার নম্বরে চলে গেছে।
দ্রুত পরিচিত কোনো বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে সেই টাকা ফেরত পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন তিনি। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে প্রতারক গ্রাম পুলিশ সদস্য বেলালকে কনফারেন্স কলে যুক্ত করে একটি সাজানো পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
একই সঙ্গে টাকা না পাঠালে পুলিশ পাঠিয়ে আটক করারও হুমকি দেন। এমনকি তার সামনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলেও দাবি করেন।
পংকজ দত্ত বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাজারে থাকায় চারপাশের কোলাহলের মধ্যে বিষয়টি বুঝতে কিছুটা দেরি হয়। একপর্যায়ে প্রতারক অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করেন। তবে সন্দেহ হওয়ায় তিনি টাকা পাঠাননি এবং প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পান।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এ ধরনের প্রতারণার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দোঘড়িয়া গ্রামের নলাহাঙ্গা পানিতলাহাট এলাকার রওশন আরা বেগমের নামে নিবন্ধিত। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে অন্য কেউ প্রতারণার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ারউদ্দিন জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের ফোন বা ভুয়া এসএমএস পেলে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।












