কথা কাটাকাটি চলছিল। এর মধ্যে একজন আরেকজনকে ধাক্কা দেয়। এতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় গত শুক্রবার সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি হলেন ফজলুল আমিন। তিনি পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার ছেলে যোবাইরুল হক ইনানের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি স্কুলের সামনে ভ্যান বসবে না–সামাজিকভাবে এমন একটা সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল স্কুলের সামনে ভ্যান বসানো হয়েছে। এ কাজে বাধা দিতে গিয়েছিলেন ফজলুল আমিন। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহজাহান নামের একজন ও তার ছেলে সিফাত মিলে ফজলুল আমিনকে ধাক্কা দেন। এতে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ফজলুল আমিন। স্থানীয়রা সেখান থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আগের দিন বৃহস্পতিবার সমাজের পক্ষ থেকে স্কুলের সামনের ভ্যানগুলো তুলে দেওয়া হয় জানিয়ে যোবাইরুল হক জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতি করে আসছিলেন। তাকে যারা ধাক্কা দিয়েছেন তারাও যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তবে তারা ‘হাইব্রিড’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে তারা যুবদলের নেতাকর্মী বনে গেছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে তারা নিজেদের বিএনপির লোক পরিচয় দিতে থাকেন।
তিনি জানান, শাহজাহান ও তার ছেলে স্কুলের সামনের ভ্যান থেকে চাঁদা তোলেন। তাদের ‘নেতা’ রয়েছেন। উক্ত নেতা তাদেরকে চাঁদা নিতে বলেছিলেন। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফজলুল আমিন হার্টের রোগী ছিলেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকে বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় স্থানীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এলাকায় ভ্যান বসানো হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, ফজলুল আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ৭–৮ জনকে।
মামলাটি তদন্ত করছেন চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। গতকাল তিনি আজাদীকে বলেন, কীভাবে ফজলুল হকের মৃত্যু হয়েছে সেটি আমরা তদন্ত করছি। সেই সাথে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, ভ্যান বসানো নিয়ে কথা কাটাকাটির সময় ধাক্কা দিলে ফজলুল হক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এমন তথ্যই এসেছে। বাকিটা তদন্তের পর বলা যাবে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন আজাদীকে বলেন, ফজলুল হকের মৃত্যুর ঘটনাটির তদন্ত চলমান।









