খাগড়াছড়ির রামগড়–জালিয়াপাড়া সড়কে শ্যামলী পরিবহণের একটি নৈশকোচের বক্সের খোলা দরজার আঘাতে শাহ আলম (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও অপর দুইজন আহত হয়েছেন। নিহত শাহ আলম খাগড়াছড়ি সদরের শান্তি নগরের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া শ্যামলী বাসের চালকের লাশ নাকাপা বাজার এলাকার যাত্রী ছাউনী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মো: রব সেখ (৪৫)। তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১২ টার দিকে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকাগামী শান্তি পরিবহণের একটি নৈশ বাস রামগড়–জালিয়াপাড়া সড়কের চাষীনগর নামক স্থানে পৌঁছলে চাকা ব্লাস্ট হয়ে যায়। এসময় বাসের যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। ঐসময় ঢাকাগামি শ্যামলী পরিবহণের একটি এসি নৈশকোচ দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় বাসের মালামালের বঙের খোলা দরজার সাথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শান্তি পরিবহণ বাসের যাত্রীদের কয়েকজনের গায়ে আঘাত লাগে। এতে শাহ আলম মারা যায়। গুরুতর আহত হন জুনায়েত (২৫) ও রুবেল কর্মকার (৩৫) নামে দুই ব্যক্তি। বঙের দরজার আঘাতে শাহ আলমের পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (এসি) মো: নাজির আলম জানান, খবর পেয়ে রামগড় থানাধীন নাকাপা ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে রামগড় হাসপাতালে পাঠায়। এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল হতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরবর্তী নাকাপা বাজার সংলগ্ন নাকাপা হাইস্কুল প্রবেশদ্বারের যাত্রী ছাউনী থেকে সোমবার সকালে ঐ শ্যামলী বাসের চালক বর সেখের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওসি জানান, তার পকেটে পাওয়া এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, চাষীনগরে দুর্ঘটনার পর শ্যামলী বাসের চালকসহ অন্য স্টাফরা গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। চালক রব পালিয়ে নাকাপার যাত্রী ছাউনীতে এসে পরনের প্যান্ট–সার্ট খুলে লুঙ্গি ও গেজ্ঞি পড়েন। পরে তিনি যাত্রী ছাউনীতে কাঠের বেঞ্চে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ওসি বলেন, ঘুমের মধ্যে সম্ভবত: তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। তিনি আরও জানান, তার আত্মীয়–স্বজনরা রামগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।













