চকরিয়া উপজেলা সীমান্ত থেকে একটি মৃত হাতি উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। হাতিটির ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে চিকিৎসক জানতে পারেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চোখে গুলি করা হয়েছিল। দীর্ঘ যন্ত্রণা ভোগ শেষে শনিবার মধ্যরাতের দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ণগ্রাম এলাকায় মা হাতিটির জীবন থেমে যায়। এ সময় তার পাশে ছিল তিন বছরের শাবক। পূর্ণগ্রামটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এলাকা। খবর বিডিনিউজের। বনবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় লোকজন শনিবার বিকালে প্রথমে আহত হাতিটিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তখনও তার নিঃশ্বাস চলছিল, কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকু আর অবশিষ্ট ছিল না। পাশে ঘুরছিল তার তিন বছরের ছোট্ট শাবক। মায়ের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বারবার সে ডাকছিল। খবর পেয়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা হাতিটিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় পান। দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি পৌঁছাতে পারেননি। পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী, বনকর্মীরা ওষুধ প্রয়োগ করেন। তবু শেষ রক্ষা হয়নি। মধ্যরাতের দিকে নিভে যায় মা হাতির জীবন। মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পর পাহাড় থেকে নেমে আসে ১০–১২টি বুনো হাতির পাল। তারা মৃত হাতিটির চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকে অনেকক্ষণ। শুঁড় উঁচিয়ে গর্জন করতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ এমন করার পর ধীরে ধীরে তারা আবার ফিরে যায় পাহাড়ের অন্ধকারে। রোববার হাতিটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছে বনবিভাগ।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান ময়নাতদন্ত শেষে বলেন, ‘হাতিটির বাঁ চোখে প্রায় ১০ ইঞ্চি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। সেখান থেকে একাধিক সিসার ছররা উদ্ধার করা হয়েছে এক মাস আগে স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হাতিটিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। চোখের ভেতরে ছররা আটকে থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ধীরে ধীরে মৃত্যু হয় প্রাণীটির।’
বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, দুই–তিন সপ্তাহ ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ও রামু–ঈদগাঁওয়ের পাহাড়ি বনে একটি আহত হাতি শাবকসহ ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমন খবর তারা পাচ্ছিলেন। কিন্তু বহু খোঁজ করেও তখন হাতিটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে খুঁজে পেলেও, বাঁচানো গেল না। পাহাড়ি অরণ্যে হয়ত কোথাও মাকে খুঁজে ফিরছে সেই ছোট্ট শাবকটি।













