পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলা থেকে ঈদের দিন ও পরবর্তী ২ দিন যাতে মহানগরে কোরবানি পশুর চামড়া প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে চেকপোস্ট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনার এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে অনুরোধ করা হয়।
গতকাল রোববার টাইগারপাস নগরভবনে অনুষ্ঠিত কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে আয়োজিত সমন্বয় সভা থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সভা থেকে বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে চামড়া ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও বাইরের অতিরিক্ত চামড়া নগরে প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যাতে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রাখা হয় এবং খুচরা চামড়া ব্যবসায়ীদের লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে তার আওতাধীন জেলা ও উপজেলাসমূহে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রেরণের অনুরোধ করা হয়। এছাড়া আড়তদার ব্যতীত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে সক্ষমতার অধিক চামড়া সংগ্রহ না করে তার পরামর্শ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় শাহাদাত হোসেন কোরবানির পশুর চামড়ার অব্যবস্থাপনার কারণে যাতে নগরের পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং কোরবানিদাতারা ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশন দেন। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা চলবে না। কোরবানির সময় চামড়া ব্যবস্থাপনায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে চসিক, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মেয়র বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে কৃত্রিমভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করে। আবার কিছু খণ্ডকালীন বা মৌসুমি ব্যবসায়ী একদিনের জন্য ব্যবসায় নেমে কাক্সিক্ষত দাম না পেলে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা চামড়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।
ডা. শাহাদাত বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবে শহরটাকে ক্লিন রাখা। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ না করা গেলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া রাস্তায় ফেলে না দেয়, সেজন্য আপনারা সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিন। এতে পরিবেশ রক্ষা পাবে, নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে। আমরা চাই ঈদুল আজহার সময় নগরে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃক্সখলা সৃষ্টি না হোক। চামড়া ব্যবস্থাপনায় সবাই দায়িত্বশীল হলে কোরবানিদাতারাও ন্যায্যমূল্য পাবেন, পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।
সভায় চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ট্রেনারি মালিকের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধ করার এবং কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যাতে সক্ষমতার বাইরে চামড়া সংগ্রহ না করে সে ব্যাপারে সহযোগিতা চান।
এছাড়া সভায় কোরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ মজুদ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আড়তদার সমিতিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। লবণের মূল্য সহনীয় রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতে বিসিককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পশুর হাটসমূহে ভেটেরিনারি ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পশুর চামড়া ছিলানো এবং সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে প্রচারকার্য চালানোর জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি সম্রাট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ ও উপদেষ্টা মোরশেদুল আলম।












