প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার তিন দিনের মধ্যেই ফ্লাবিও বোলসোনারে হঠাৎ করে ব্রাজিল থেকে উধাও হয়ে যান। এই ঘটনা শুরু হয়েছিল রোববারের রানঅফ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে তার অস্বীকার করার মাধ্যমে আর শেষ হয় আর্জেন্টিনা ও একুয়েডর হয়ে বুধবার তার মায়ামি পৌঁছানো দিয়ে। খবর বিডিনিউজের। অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি তদন্তের প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাকে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ডানপন্থি এই সেনেটর কোনো ধরনের অপকর্মের কথা অস্বীকার করার পর গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
রোববার: নির্বাচনে পরাজয় ও ফলাফল অস্বীকার : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার কাছে প্রায় ৪০ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। অথচ প্রথম পর্বের ভোটে জয় পেয়ে এই রানঅফ পর্বে এগিয়ে থেকেই ভোটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। হারার পরও নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি বোলসোনারো। তিনি নির্বাচন বাতিলের দাবি জানাবেন বলে জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়ায় তা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু বিশ্ব নেতারা দ্রুততার সঙ্গে লুলার জয়ের স্বীকৃতি দেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে প্রথমদিকে চুপ করে ছিলেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সোমবার: পাসপোর্ট আদেশ : এদিন ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন, ব্রাজিলের নির্বাচন আরেকটি কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের মতো মনে হয়েছে। কিন্তু বোলসোনারোর ডানপন্থি দল নির্বাচনের ফলাফলের স্বীকৃতি দেয়। বোলসোনারো সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েসের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ফেডারেল পুলিশ তার পাসপোর্টগুলো জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এসময় তিনি জানান, তিনি আদেশটি মেনে চলবেন আর ব্রাজিল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন জল্পনা নাচক করেন।
মঙ্গলবার: তার পালিয়ে যাওয়ার খবর : ব্রাজিলের স্থানীয় সময় দুপুর রাত ১টায় আর্জেন্টিনার নিউজ সাইট ইনফোবায়ে জানায়, বোলসোনারো আর্জেন্টিনার উদ্দেশে ব্রাজিল ছেড়েছেন আর সীমান্তের নিকটবর্তী পুয়ের্তো ইগুয়াসু বিমানবন্দরে অপেক্ষারত একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, বোলসোনারো এই দেশে প্রবেশ করেছেন এমন কোনো তাদের কাছে নেই। তারা আরও জানান, তাদের পরিদর্শকরা উড়োজাহাজটি ও এর ক্রুদের পরীক্ষা করে দেখেছেন আর সেখানে তারা বোলসোনারো ও তার পরিবারকে নিয়ে কোনো ফ্লাইটের পরিকল্পনা দেখতে পাননি। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলের এক মুখপাত্র জানান, আর্জেন্টিনা লুলার জয়ের নোট নিয়েছে কিন্তু তাকে অভিনন্দন জানানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি। আর্জেন্টিনা বোলসোনারোর আশ্রয় প্রার্থনা বিবেচনা করবে কি না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। ব্রাজিলে দুপুর ১২টা বাজলেও বোলসোনারো তখনও তার পাসপোর্ট জমা দেননি। এতে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ সময় পার হয়ে যায়। কিন্তু তখন বোলসোনারো কোথায় তা কেউ বলতে পারছিল না। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ রয়টার্সকে জানায়, র্নিধারিত সময় পার হওয়ায় তার পাসপোর্টগুলো বাতিল করা হয়েছে।
দুপুর সোয়া ২টায় সিএনএন ব্রাজিল বোলসোনারোর মিত্রদের উদ্ধৃত করে জানায়, সেনেটর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ২টা ২০ মিনিটের দিকে বোলসোনারোর এক মিত্র রয়টার্সকে জানান, সেনেটর ইতোম্যেধ ব্রাজিল ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছেন। দুপুর আড়াইটায় মার্কিন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বোলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রমুখী একটা উড়োজাহাজে আছেন। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বোলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া দিয়ে তাদের ভিসা মঞ্জুর করা হবে। ৬টা ২৫ মিনিটে লুলা বোলসোনারোর ব্রাজিল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন।












