পোর্ট সিটি ক্যান্সার কেয়ার কনভার্সেশন

ব্যানক্যাটের আয়োজনে সমাজে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের জন্য সেবা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ

| মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্ট (ব্যানক্যাট) চিটাগং ক্লাবে নির্মাণাধীন “আলোক বসতি” প্রকল্পের নানান দিক, ব্যবস্থা তুলে ধরার সময় নানান দিক বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি, রোগ সনাক্তকরণে দ্রুততা এবং সঠিক নির্ণয় নিশ্তিত করা, সার্বিকভাবে রোগ প্রতিরোধ করা, জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারি এবং সরকারি খাতের বিনিয়োগে অংশগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ সেপ্টেম্বর ২০২৬, চট্টগ্রাম: গত শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর (বাংলাদেশ ক্যানসার এড ট্রাস্ট)-এর যৌথ উদ্যোগে সংক্রান্ত সামাজিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘পোর্ট সন্ধ্যায় চিটাগং ক্লাব লিমিটেড এবং ব্যানক্যাট ক্যানসার রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সিটি ক্যানসার কেয়ার কনভার্সেশন’ আয়োজন করা হয়।

ক্লাব সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন শিল্পের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সেবার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকলের সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং ব্যানক্যাটের নির্মাণাধীন প্রকল্প *আলোক বসতি’-এর পরিকল্পনা ও সফল বাস্তবায়নে সকলের অংশগ্রহণের বিষয়টি পর্যালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন চিটাগং ক্লাবের চেয়ারম্যান শোভন এম. শাহাবুদ্দিন ব্যানক্যাটের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক নাজমুস আহমেদ ফারজাদ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন আমির আলিহুসাইন এবং লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর পারভীন মাহমুদ এফসিএ। বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে হাসপাতালের রেডিওথেরাপি ও ক্লিনিক্যাল অনকোলজি হাসপাতাল চট্টগ্রামের ভিজিটিং কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুফ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফারজাদ আহমেদ নিজের পরিবারের পরিবারের ক্যানসার যাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হয়েছিলেন তার স্মৃতিচারণ করেন। ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. ফাহিম হাসান রেজাও নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ব্যানক্যাটকে শাহাবুদ্দিন এ সন্ধ্যাকে “আশা, সহানুভূতি ও সেবার রাত’ বলে অভিহিত করেন এবং সমাজকে এ উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে উঠা নাজমুস আহমেদ আলবাব অসচ্ছল রোগীদের জন্য ব্যানকাট যে আলোক বসতি (ক্যানসার কেয়ার ভিলেজ) গড়ে তুলছে তার পরিচয় তুলে ধরেন এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ব্যাখা করেন।

ডা. ইউসুফ জানান, বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে বেঁচে থাকার হার প্ৰায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার সেন্টারের জন্য উন্নত ডায়াগনস্টিকস, রেডিয়েশন সুবিধা, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, রেজিস্ট্রির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

উপকূলীয় অঞ্চলে ক্যানসার হার বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি শিপ-ব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে পানি দূষণের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে সমমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার সরকারের ওপর চাপ কমাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

আমির আলিহুসাইন বলেন, করপোরেট প্ৰতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সরকার একসঙ্গে কাজ করলে ক্যানসার সেবার ব্যবধান দূর করা সম্ভব। তিনি প্রাথমিক শনাক্তকরণ, কেমোথেরাপির বাইরের চিকিৎসা বিকল্প খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রা ও পরিবেশের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক প্রচারণার ওপর জোর দেন। বিএসআরএম ক্যানসার সেবায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিটাগং ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আলী আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মো. সায়েদুল আনোয়ার (ফরহাদ), সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাদা আলম ও মঞ্জুরুল হক মঞ্জু এবং ক্লাব সদস্য জাবেদ হাশেম নানু দিলদার আহমেদ (দিলু) মো. সরোয়ার হাসান, অ্যাডভোকেট সাবরিনা চৌধুরী, মো. কামরুল ইসলাম ও শেখ হাসান জামান।

অনুষ্ঠানের শেষে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয় মোসাব্বির আলোক নিবাস পরিদর্শন করতে, ব্যানক্যাটের পাশে দাড়াতে এবং প্রতিটি রোগীর কাছে মানসম্মত ক্যানসার সেবা পৌছে দিতে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইমরান খানের ৩ বোনই আটক