পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়েছে মাদকের আসামি রোহিঙ্গা

এসআইসহ ৩ জন সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম আদালতের জিআরও শাখা থেকে হাজতখানায় নেয়ার পথে আবুল কালাম (২৫) নামের এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ হেফাজত থেকে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ৩ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন- এসআই সেতু আক্তার, কনস্টেবল মো. নজরুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন। এ ঘটনায় নগর পুলিশের এডিসি আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের ডিসি মো. জসিম উদ্দিন আজাদীকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইতোমধ্যে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পালিয়ে যাওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আদালতের প্রসিকিউশন শাখার সূত্র জানায়, তখন বেলা আড়াইটা। আসামি আবুল কালামসহ ৭ জনকে কোতোয়ালি থানার জিআরও শাখায় নিয়ে আসেন দুইজন কনস্টেবল। আসামিদের কাগজপত্র এন্ট্রিও হয়। এরপর তাদের হাজতখানায় নেয়া হয়। একটু পর খবর আসে আবুল কালাম নামের আসামিকে পাওয়া যাচ্ছে না।
হাজতখানার সূত্র আরো জানায়, সাতজন আসামির নিরাপত্তায় দুই জন পুলিশ সদস্য পর্যাপ্ত নয়। এমন উদাসীনতা প্রায় দেখা যায়। সবকটি থানার অবস্থা প্রায় একই। আসামির সাথে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য থাকে না। এ বিষয়ে আদালতের প্রসিকিউশন শাখার এডিসি কামরুল হাসান আজাদীকে বলেন, পালিয়ে যাওয়া আসামি প্রসিকিউশন শাখার হেফাজতে ছিলেন না। থানা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। এরপরও আমরা বিষয়টি আদালতসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি।
জানা গেছে, পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আবুল কালাম মিয়ানমারের নাগরিক। থাকতেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এক হাজার ৫০ পিস ইয়াবাসহ কদমতলি মোড় থেকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরপর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মো. টিপু সুলতান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশ্রীপুর বুড়া মসজিদের দানবাক্সের টাকা চুরি
পরবর্তী নিবন্ধ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয় : হাই কোর্ট