চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ও ইস্পাহানী গ্রুপ অব কোম্পানীজের পৃষ্ঠপোষকতায় ৩৫ তম পাইওনিয়র ফুটবল লিগ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে হাটহাজারী স্পোর্টস ক্লাব। গতকাল ২মে শনিবার বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিভেজা ফাইনালে হাটহাজারী স্পোর্টস ক্লাব ২–১ গোলের ব্যবধানে মুহাম্মদনগর ফুটবল একাডেমিকে পরাজিত করে। খেলার ২৮ মিনিটে লিড নেয় মুহাম্মদনগর ফুটবল একাডেমি। বক্সের বাইরে ডানপ্রান্ত থেকে সতীর্থের ভাসানো ফ্রি কিকে মাথা ছুঁইয়ে দিয়ে ইয়াসিন আরাফাত সাঈদ বল জালে দেন। এগিয়ে যায় তার দল মুহাম্মদনগর (১–০)। এ ফলাফলেই খেলার প্রধমার্ধ শেষ হয়। তবে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধের ৮ম মিনিটে সমতা এনে খেলায় ফিরে আসে হাটহাজারী স্পোর্টস ক্লাব। কর্নারের পর গোলমুখে হওয়া জটলা থেকে কিপারের ব্যর্থতায় সুযোগ বুঝে নুরুজ্জামান সায়েম বল জালে পাঠান। সমতায় ফিরে হাটহাজারী (১–১)। ৪মিনিট ব্যবধানে আবারো এগিয়ে যায় হাটহাজারী। তাদের ওসমান বিল্লাহ’র দুর্দান্ত শট প্রতিহত করতে গিয়ে মুহাম্মদনগর ফুটবল একাডেমির ইকবাল হোসেন জিহাদের মাথায় লেগে বল জাল স্পর্শ করে (২–১)। এরপর একনাগারে ভারি বৃষ্টিপাতে মাঠে প্রচুর পানি জমে যায়। উভয় দলের খেলোয়াড়দেরও বাড়তি পরিশ্রম করে খেলতে হয়। তবে তা থেকে বাকি সময়ে আর কেউ গোলের দেখা পায়নি।
ফলে হাটহাজারী স্পোর্টস ক্লাবের খেলোয়াড়–সমর্থকরা প্রথম শিরোপা জয়ের আনন্দে উল্লাসে মাতে। খেলা শেষে সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক যাহেদুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং বিশেষ অতিথি এম এম ইস্পাহানি লিমিটেডের পরিচালক মীর্জা আলী ইস্পাহানি পুরস্কার বিতরণ করেন। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স–আপ দলকে মনোরম ট্রফিসহ নগদ ৩০ ও ২০ হাজার টাকার প্রাইজমানি দেয়া হয়। ওসমান বিল্লাহ ফাইনালের সেরা ও ধানসিঁড়ি ক্লাবের ফরিদ উদ্দিন সোহান সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্রেস্টসহ নগদ ৫ হাজার টাকা করে এবং দুই সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ৪ দলকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। লিগের সুশৃঙ্খল দল বিবেচিত হয় হালদা ফুটবল ক্লাব। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইস্পাহানি গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার শাহ মঈনুদ্দিন হাসান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ–পুলিশ কমিশনার (সদর) ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ–পুলিশ কমিশনার(ডিবি–দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ–পুলিশ কমিশনার (ওয়েলফেয়ার এন্ড ফোর্স) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, ইস্পাহানি গ্রুপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান, গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, আবু হেনা মোস্তফা হেলাল, তাসবির হাকিম, সংস্থার সহ–সভাপতি ইবাদুল হক লুলু, যুগ্ম সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, নির্বাহী সদস্য সেকান্দর কবির, ওয়াহিদ দুলাল, নওশাদ আহমেদ চৌধুরী, সাজিব বিকাশ বড়ুয়া টুটুল, মনোতোষ ঘোষ, ফরিদা পারভিন, নিয়াজ মো. খান, দেবাশীষ বড়ুয়া, মনোরঞ্জন সাহা, আবদুল গফুর পন্টি, ফারজানা জেসমিন খান ও মোহাম্মদ মারুফ প্রমুখ।
লিগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ফুটবল কমিটির সম্পাদক মাহবুবুল আলম মুকুল, রাকিব মাহমুদ, আইনুল কবির জিতু, জহিরউদ্দিন, মো. নাছির, ফুটবল কমিটির আর.আই.সিএমপি, মারুফ সিকদার, মো. গালিব, মাহবুবুল আলম রাজিব, মো. মুছা, আশরাফুল হোসেন মুক্তার এবং জি এম চৌধুরী নয়ন প্রমুখ।














