চট্টগ্রাম কাস্টমসে নিলামে পণ্য বিক্রিতে গতি বেড়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯১ হাজার ৯ টাকা রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এরমধ্যে শেষ দেড় বছরে আয় করেছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৩৪ টাকা। অখালাসকৃত পণ্য নিলামে বিক্রি করার মাধ্যমে একদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড খালি হচ্ছে, অপরদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ আয় করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিলামে পণ্য বিক্রি বা নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা কন্টেনার খালি করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনিবআর)। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অখলাসকৃত কন্টেনারের পণ্য দ্রুত ইনভেন্ট্রি (গণনা) করে সকল আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিলামে তোলা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে মোট ২৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ১ হাজার ৮১৪ লটে পণ্য বিক্রি করে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৪ টাকা। এছাড়া ২০২২ সালে নিলাম অনুষ্ঠিত হয় ৪২টি, এতে ১ হাজার ৩৮১ লটে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব আয় হয় ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ ৬১৪ টাকা, ২০২৩ সালে ২৩টি নিলামে ৬৩২ লট পণ্য বিক্রি করে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায়, ২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামে ৫১১ লটে পণ্য বিক্রি করে রাজস্ব আয় হয় ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৪১ হাজার ৯৩০ টাকা এবং ২০২৫ সালে ৬০ লটে ১ হাজার ৪০ লট পণ্য বিক্রির পর রাজস্ব আয় হয় ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৭ টাকা। এছাড়া চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অনলাইন ও প্রকাশ্যে ৪৫টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ৩৮৩ লটে পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টমস ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ রাজস্ব আয় করেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম পরিচালনা ও লেবার কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা কে.এম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মতে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে নিলাম পরিচালনা, পণ্য চালান ইনভেন্ট্রি ও ডেলিভারি সংক্রান্ত কাজ করে আসছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের দক্ষ লোকজন চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় নিলামের সকল কাজ সুচারুভাবে করার কারণে ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৩৪ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। যা সময়ের ব্যবধান হিসেবে একটি রেকর্ড।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (নিলাম শাখা) আবু সুুফিয়ান আজাদীকে বলেন, এনবিআরের নির্দেশে আমরা নিয়মিত অখালাসকৃত পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করছি। এর ফলে গত কয়েক বছরে নিলামে গতি বেড়েছে। একই সাথে নিলামের পণ্য বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। এছাড়া নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করার মাধ্যমে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার কাজও চলমান রয়েছে।












