নির্বিচারে লুট হচ্ছে সামাজিক বনায়নের গাছ, আতঙ্কে উপকারভোগীরা

মহেশখালীর শাপলাপুর বিট

মহেশখালী প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১১ জুন, ২০২৬ at ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের একমাত্র পাহাড়িদ্বীপ মহেশখালীতে রাত হলেই শুরু হয় বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য। নির্বিচারে গাছ কেটে লুটের কারণে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের আওতাধীন কক্সবাজারের মহেশখালী রেঞ্জের সংরক্ষিত ও সামাজিক বনাঞ্চল এখন বিরান ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে।

সমপ্রতি কতিপয় চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা স্থানীয় বনবিভাগের কর্মকর্তাকর্মচারীদের এবং প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে বনাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে গাছ কেটে অবাধে লুটে নিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাছশূন্য হয়ে পড়েছে শাপলাপুর বিটের অধীন ষাইটমারা এলাকা। তাছাড়া একই সাথে সমানতালে চলছে বন বিভাগের জায়গায় মাটি কেটে পাকা বাড়িসহ দালান নির্মাণের হিড়িক। শাপলাপুর বিটের সংরক্ষিত বনের এসব গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও হরিয়ার ছড়া পাহাড়ের পাদদেশে অর্থের বিনিয়োগে ঘর তৈরির অনুমতি দিচ্ছে বন বিভাগ।

জানা গেছে, এক বছর আগেও যেখানে বন বিভাগের গাছ তেমন কেউ কাটত না। সেখানে এখন বছর না ঘুরতেই বদলে গেছে দৃশ্য। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাছ কাটা ও গাছ পরিবহন এখন নিত্য দিনের ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতেও রহস্যজনক কারণে দেখেও না দেখার ভান ধরে নিশ্চুপ বন বিভাগ। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বনদস্যুরা। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা তাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শাপলাপুর ইউনিয়নের ষাইটমার এলাকায় গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা মিলেছে। সরজমিনে দেখা যায়, কিছু দূর পরপরই একাধিক কাটা গাছের গোড়া বয়ে বেড়াচ্ছে দস্যুতার চিহ্ন।

উপকারভোগীরা বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ রাতের বেলায় কেটে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে মোট ৫০টির মত গাছ কেটে নিয়ে গেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় কয়েক লাখ টাকা। গাছ লুট বৃদ্ধির ঘটনায় বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শাপলাপুর বন বিভাগের স্টাফদের যোগসাজশে এসব গাছ কর্তন হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শাপলাপুর বিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, গাছ চুরি ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে চুরির সাথে বনকর্মী কেউ জড়িত নাই। বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে পাকা দালান নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া আছে।

মহেশখালী ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। সামপ্রতিক সময়ে আদালতে বেশ কিছু মামলাও করা হয়েছে। মহেশখালীর অন্যান্য এলাকার বাগানে গাছ চুরি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও শাপলাপুর বিটে গাছ চুরি কমানো যাচ্ছে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিয়ে করে অপরাধ করেননি নাসির ও তামিমা, খালাসের রায়
পরবর্তী নিবন্ধহেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ২১ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান