তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম আদেশেই থালাপতি বিজয় রাজ্যে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দিতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ও নারীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। খবর বিডিনিউজের।
রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের (টিভিকে) এই নেতা। এরপর তার আবেগঘন বক্তৃতা শুরুই হয় তামিল শব্দগুচ্ছ এন নেনজিল কুডিইরুককুম দিয়ে, যার অর্থ যারা আমার হৃদয়ে বাস করেন, অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয় অতীতেও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এভাবেই বক্তৃতা শুরু করতেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম আদেশেই টিভিকে প্রধান বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণের নির্দেশ দেন। তার আদেশে মাদকের মহামারি রুখতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং নারীদের সুরক্ষায় হেল্পলাইনসহ একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের কথাও বলা হয়েছে। বিজয় বলেন, তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক অধিকারের বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগী থাকবেন। কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সব ভালো হবে, বলেছেন তিনি। সহকারী পরিচালকের ছেলে এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কী আমি জানি। আমি কোনো রাজ পরিবার থেকে উঠে আসিনি। অনেক কষ্ট দেখেছি আমি, হয়তো অনেকে অপমানও করেছেন। আমি আপনাদের সন্তানের মতো, আপনাদের ভাই, আপনাদের ছোট ভাই।
আপনাদের হৃদয়ে আমাকে জায়গা দিয়েছেন, আমাকে গ্রহণ করেছেন, বলেন ৫১ বছর বয়সী থালাপতি। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না এমন আশ্বাস দিয়ে বিজয় বলেন, ডিএমকে রাজ্যের ভাণ্ডার খালি করে দিয়েছে, আমরা ১০ লাখ কোটি রুপি ঋণ মাথায় নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা লোকজনের পকেট থেকে এক টাকাও নেবো না, এবং কাউকে রাজ্য লুট করতেও দেবো না। প্রকৃত, সেক্যুলার, সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বক্তৃতায় বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীন চক্রবর্তী, বাম নেতা এমএ বাবা ও অন্য মিত্রদের ধন্যবাদ জানান। মঞ্চে সেসময় রাহুল গান্ধী ছিলেন, যিনি ৪ মে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজয় ও টিভিকে–কে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে বিধানসভার ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন জিতে দক্ষিণের রাজ্যটিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। সরকার গড়তে প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ১১৮ আসনে। এজন্য টিভিকে প্রথমে দ্বারস্থ হয় আগেরবার ক্ষমতাসীন দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগমের (ডিএমকে) মিত্র কংগ্রেস ও বামদের। ৫টি আসনে জেতা কংগ্রেস এবং ২টি করে আসনে জেতা কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া–মার্কসিস্ট (সিপিআইএম) শুরুতেই তাদের সমর্থন নিশ্চিত করে। কিন্তু তারপরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় টিভিকের সরকার গড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
অনেক দরকষাকষির পর শনিবার বাম–ঘরানার দলিত দল ভিসিকে ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচচি (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) বিজয়কে সমর্থন দেয়। এতেই ম্যাজিক পার্ক পার হয়ে যায় টিভিকে। প্রায় ছয় দশকের মধ্যে তামিলনাড়ু পায় ডিএমকে ও অল ইন্ডিয়া দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম–এআইএডিএমকেবিহীন প্রথম সরকার। পরে ডিএমকে–র মুখপাত্র এ সারাভানান দাবি করেন, সাংবিধানিক সঙ্কট এড়াতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনই ভিসিকেসহ অন্য মিত্রদের বিজয়ের হাত ধরতে রাজি করিয়েছেন।














