প্রকৃতির দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি কৃষ্ণপক্ষের গভীর অন্ধকারের বুকেই লুকিয়ে থাকে একটি উজ্জ্বল শুক্লপক্ষের আলো। একটি বীজ যখন মাটির অন্ধকারে নিজেকে বিলীন করে দেয়, তখন আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় সেটি ধ্বংস হয়ে গেল। কিন্তু সেই আত্মাহুতির বুক চিরেই অঙ্কুরিত হয় একটি নতুন প্রাণ, যা একদিন মহীরুহ হয়ে আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। ধ্বংস তাই শেষ নয়, ধ্বংস হলো সৃষ্টির এক নীরব প্রসববেদনা। ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, সভ্যতার সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়গুলো রচিত হয়েছে কোনো না কোনো মহাধ্বংসের পর। ধ্বংসলীলা থেকেই জন্ম নিয়েছে আমাদের এই চিরসুন্দর পৃথিবী। মানব ইতিহাসেও দেখা গেছে, যুদ্ধের বিভীষিকায় ছাই হয়ে যাওয়া শহরগুলো আবার জেগে উঠেছে আরও আধুনিক, আরও দৃষ্টিনন্দন রূপে। মানুষের জীবনও ঠিক তাই; ব্যর্থতার চরম আঘাতে যখন চেনা পৃথিবীটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, ঠিক সেই শূন্যতা থেকেই জন্ম নেয় নতুন করে বাঁচার, নতুন কিছু গড়ার অদম্য আকুলতা। অহং–এর বিনাশ ও আত্মার পুনরুত্থান, আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, মানুষের ভেতরের ‘আমি’ বা অহংকার যতক্ষণ না ধূলিসাৎ হচ্ছে, ততক্ষণ সেখানে ঐশ্বরিক প্রেমের আলো প্রবেশ করতে পারে না। হৃদয়ের পুরোনো জঞ্জাল, অহমিকা আর পার্থিব মোহ যখন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, তখনই সেই শূন্য হৃদয়ে ডানা মেলে শুদ্ধতা আর পরম শান্তির এক নতুন আশা।












