বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের জাতীয় কবি নজরুলকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো কেবল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার তার সাহিত্যকর্ম তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।
তিনি গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে ২০২৬–২০২৭ নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন সিঁথি, সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব আবদুল মান্নান রানা, থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক অভীক ওসমান এবং জাসাস চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ শিপন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে এরশাদ উল্লাহ বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার অসামান্য প্রতিভার জোরে বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। নজরুল ছিলেন একজন বিদ্রোহী কবি। তার সাহিত্যকর্ম ও কবিতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং এসব কবিতা লেখার কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল। তার রচিত বিদ্রোহী কবিতাগুলো আজও নতুন প্রজন্মকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়।
এরশাদ উল্লাহ নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত নয়, বরং স্বশিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ও মাইকেল মধুসূদনের মতো কবিদের সাহিত্যকর্ম বেশি বেশি পড়ার পরামর্শ দেন। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, সাম্য, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতা বিকশিত করা সম্ভব। জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন নতুন প্রজন্মকে জাতীয় কবির জীবন, কর্ম ও আদর্শের সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য থেকে সামাজিক শিক্ষা, মনুষ্যত্ববোধ, সাম্য, ন্যায়বোধ ও সুশিক্ষার অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানী, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নজরুল ইসলাম শুধু কবিতা ও গানের কবি নন; তিনি মানবিকতা, সাম্য, সাহস ও ন্যায়বোধের প্রতীক। তার সাহিত্য শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় নজরুলকে আরও গভীরভাবে স্মরণ ও অনুসরণ করতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। স্কুলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে ভবিষ্যতেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।











