সরকারের পরিবর্তন চান এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা চাই এই সরকারের পরিবর্তন হোক এবং চিরদিনের জন্য এই ধরনের সরকার দেশ থেকে চলে যাক। এই সরকার আর বাকশালী সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। দলীয় লোকদেরকে পৌরসভায় বা সিটি কর্পোরেশনে নিয়োগ দিয়েছে, জেলা পরিষদে নিয়োগ দিয়েছে, সব জায়গায় নিয়োগ দিচ্ছে। তাহলে গণতন্ত্র কোথায়? জবাবদিহিতা কোথায়?
তিনি গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অলি আহমদ বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দেশ আজ পঙ্গু, দেশে কোনো টাকা নাই। প্রত্যেক দিন নতুন নতুন নোট ছাপাচ্ছে, অর্থনীতি কীভাবে আগাবে? উনারা বলছিলেন, ‘আমরা সরকারে আসলে ১ লক্ষ লোককে ৬ মাসের মধ্যে চাকরি দেব’। এখন উনারা ক্ষমতায় আসার পরে ১ লক্ষ লোকের চাকরি গেছে। তারপরে কী বলছে? ‘আপনাদের কার্ড দেওয়া হবে’। ভালো কথা, কার্ড দেওয়ার জন্য রাত্রে পুকুরের পাড়ে কেন যেতে হবে? দিনের বেলা কেন দিতে পারেন না?
তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত এবং সুশাসনের বাংলাদেশ চাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা ১১ দলীয় জোট ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারবে না। যারা বর্তমানে আছে, তারা তো অতীতেও সরকার চালিয়েছে। ২০০১ সালের পরে পরপর দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন ছিল। সকলের জন্য দেশটাকে নিরাপদ করতে হবে। যা একমাত্র ১১ দলীয় ঐক্যজোট পারবে। কারণ, আমরা আল্লাহকে মানি, আল্লাহর নবীকে মানি। আমাদের দ্বারা অন্যের কোনো ক্ষতি হবে না।
সমাবেশস্থলে আগতদের উদ্দেশে অলি বলেন, আপনাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আপনাদের হক আদায়ের জন্য। আপনারা যদি নিজে সজাগ না হন–বিগত ইলেকশনে আমরা দেখেছি, এই সন্ত্রাসীদেরকে আমাদের কিছু লোক নির্বাচিত করেছে, চাঁদাবাজদেরকে নির্বাচিত করেছে, দুর্নীতিবাজদেরকে নির্বাচিত করেছে। তিনি বলেন, আপনারা শুধু ঐক্যবদ্ধ হলে হবে না, চট্টগ্রামের প্রত্যেক ঘরে ঘরে যাবেন। মানুষকে বলবেন–আপনাদের সাথে আসার জন্য। শুধু আপনারা আসলে হবে না, প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে সকলে অস্ত্র হাতে নিয়ে আসছেন, এখন অস্ত্র হাতে নিয়ে আসার দরকার নাই–অস্ত্র ছাড়া রাস্তায় নেমে আসেন।
অলি বলেন, আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের কথা বলি–ওখানে ছিল বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন অফিসার। বেগম জিয়ার প্রাইভেট সেক্রেটারি ছিল। তাকে কী কারণে বের করল? কারণ, সে আইনের বাইরে এক কদম যাওয়ার জন্য রাজি ছিল না। কিন্তু সরকার চায় বড় বড় সন্ত্রাসী এবং বড় বড় ঋণখেলাপীদেরকে মাফ করে দিতে হবে। আপনারা কি চান, যারা আপনাদের টাকাগুলি মেরে দিয়েছে তাদেরকে মাফ করে দিক?
অলি বলেন, আমার ছেলে ৫১৪ ভোটে হেরে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে রিকাউন্টিংয়ের জন্য। জজ সাহেবের কি ৭ মাস লাগে রিকাউন্টিংয়ের জন্য? জজ সাহেবের কী দায়িত্ব? তাহলে কোর্টে বসে লাভ কী জজ সাহেবের? পরের দিনই তো অর্ডার দেওয়া উচিত ছিল–আগামী ৩ দিন পরে কাউন্টিং হবে। এটাই তো বিচার।
এলডিপি সভাপতি বলেন, একটা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভারত, সরকারি কর্মকর্তারা, ইউনূস, বিএনপি সবাই মিলে ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ক্ষমতা থেকে বাইরে রাখছে। কারণ, ১১ দলীয় ঐক্যজোট আসলে মহিলাদেরকে নিয়ে অনৈতিক কাজ করতে পারবে না, চাঁদাবাজি করতে পারবে না, দখলবাজি হবে না, দুর্নীতি হবে না–প্রত্যেককে নিজের নিজের কাজ করতে হবে।












