থানচির দুর্গম অঞ্চলে ৩৭ পর্যটক আটকা

ক্যাওক্রাডং থেকে ফিরেছেন ৭৭ জন

বান্দরবান প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই, ২০২৬ at ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় শঙ্খ নদী ও পাহাড়ের ঝিরিখালে পানি বেড়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এতে নাফাখুম, জিন্নাপাড়া ও বাঘের মুখসহ দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় ৩৭ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। এদিকে রুমা উপজেলার ক্যাওক্রাডং পাহাড়ের চূড়া এলাকায় বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া ৭৭ জন পর্যটক প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে বান্দরবান শহরে এসে পৌছেছেন। গতকাল বুধবার বিকালে সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বান্দরবান ভারী বর্ষণ বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, গত রোববার থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার শঙ্খ ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে পাহাড়ের ছোটবড় ছড়া খালগুলোও।

বিষয়টি নিশ্চিত করে থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লেমেন ত্রিপুরা বলেন, পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জিন্নাপাড়ায় ১৪ জন, বাঘের মুখ এলাকায় গাইডসহ ১৬ জন এবং নাফাখুমে গাইডবিহীন ৭ জন পর্যটক আটকে রয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে ৩৭ জন পর্যটক বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে তারা ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পানি কমার অপেক্ষায় রয়েছেন। বৃষ্টিপাত কমলে নদীর পানির স্রোতও কমবে, তখন তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। গত মঙ্গলবার থানচি থেকে ৮৮ জন পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদে বান্দরবান শহরে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ১০ জুলাই পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর অনেক পর্যটক বুকিংয়ের তারিখ পরিবর্তন না করে সরাসরি অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। এতে জেলার হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে শঙ্খ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আজ (গতকাল) সকাল ৯টায় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫.৭৫ উচ্চতা প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান বলেন, আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়েও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকথাসাহিত্যিক নাসের রহমানের ‘তিন্নির মিন্নির’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
পরবর্তী নিবন্ধউত্তর আগ্রাবাদে পানিবন্দী মানুষের পাশে সাঈদ আল নোমান এমপি