দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করা হবে

চট্টগ্রামে রেল প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু পানি না কমা পর্যন্ত কক্সবাজাররুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই, ২০২৬ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামদোহাজারী রেলপথের ষোলশহরজান আলী হাট সেকশনের বিভিন্ন স্থানে কোথাও কোথাও লাইন ১২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রামকক্সবাজার রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে রেলের বিশেষ গ্যাংকারে করে ডুবে যাওয়া রেললাইন এলাকা পরিদর্শন করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। সকাল ১০টায় ষোলশহরজান আলী হাট সেকশনের মধ্যবর্তী শমসের পাড়া এলাকায় ষোলশহরদোহাজারী রেললাইনে ডুবে যাওয়া অংশে পৌঁছেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে গ্যাংকার থেকে নিচে নেমে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটু পানিতে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ কিছু পথ হেঁটে ঘুরে দেখেন। এসময় সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন তার সাথে ছিলেন।

একই গ্যাংকারে করে পুনরায় চট্টগ্রাম স্টেশনে ফিরে এসে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ চট্টগ্রামকক্সবাজার রেলপথ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রামদোহাজারী অংশের রেললাইন কোথাও কোথাও ১২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দুর্যোগকালীন এই সংকট মোকাবিলায় চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ আরো প্রায় ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলপথ যখন উঁচু করা হবে তখন ৩ ফুট পানি বাড়লেও রেল চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।

চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় পানি রেললাইনের উপর ১৫২১ ইঞ্চি পর্যন্ত উঠে যায়। ৫৬ ইঞ্চি উঁচু পানি থাকলেও ট্রেন চলাচল করা সম্ভব। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত পানির কারণে ট্রেন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রামকক্সবাজার রুটে ট্রেন সার্ভিস সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। তবে কক্সবাজারগামী ঢাকার ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা একই টিকিটে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে পারবেন। টিকিটের অবশিষ্টাংশ টাকা রেলওয়ে যথানিয়মে ফেরত দিবে।

চট্টগ্রামকক্সবাজার রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ঢাকাচট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, ৪৫ বছর আগে এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি বৃষ্টিতে রেললাইন কী পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঁচু করা, যাতে ডুবে না যায়।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে রেললাইন উঁচু করা, যাতে ভারী বৃষ্টি হলেও রেল চলাচল বিঘ্নিত না হয়। এসময় রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকাচট্টগ্রাম রুটে একটি কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে, যা বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং যাতায়াত সময় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সাশ্রয় হবে। নতুন প্রকল্পগুলোয় ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

মীরসরাই ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পকারখানার কর্মকাণ্ডে খাল ও জলাশয় দখল হয়ে রেলপথে পানি জমার বিষয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নদী ও খাল উদ্ধারে সরকার কাজ করছে। যারা অনৈতিকভাবে দখলদারত্বের সঙ্গে জড়িত, সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরো জানান, সোলার ও ইভির মাধ্যমে রেলের আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত রয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন, পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সফিকুর রহমান, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তফিজুর রহমান মিঞা, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মুহাম্মদ আবুল কালাম চৌধুরীসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল পৌনে ১০ টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে রেলের একটি বিশেষ গ্যাংকারে করে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে ডুবে থাকা সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া অংশের রেললাইন দেখতে যান। ওই গ্যাংকারে ছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরাও।

চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার রেলপথ দুদিন ধরে পানির নিচে ডুবে আছে। টানা বর্ষণের কারণে পানি নামতেও পারছে না রেললাইন থেকে। এ কারণে চট্টগ্রামকক্সবাজার রুটের সকল ট্রেনযাত্রা বাতিল করতে হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকালে ট্রেন চলাচল করতে পারলেও দুপুরের পর থেকে আর ট্রেন চলেনি। বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রামকক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল। রেলপথটিতে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়াআসা করে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমরক্কোর প্রতিশোধ, নাকি ফ্রান্সের জয়রথ
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্বারে দ্বারে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে : মীর হেলাল