টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারো পাহাড় ধসে ৭ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো প্রায় ২৭ জন আহত হয়েছে। একটি মাদ্রাসার ঘরের ওপর পাহাড় ধসে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষক। বাকী হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর বলে জানা যায়। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ–৩ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে, গত রবিবার রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড় ধসের ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। নিহতরা হলেন– রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২), উমাইসা বিবি (১৩), অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।
রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ–৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেফজখানা ঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। পাহাড়ের মাটির সাথে ওই ঘরের দেয়ালও তাদের উপর ধসে পড়ে। চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে হতাহতদের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন শিশুশিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরো জানান, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অন্তত ২৭ জনকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান রাতে বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উখিয়া ও টেকনাফের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।












