পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাবির শাহ বলেছেন, উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, অবিচার ও অন্যায় থেকে মানব সমাজকে মুক্ত করার জন্য মহান আল্লাহ ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইসলামের নামে যে কোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদকে নিশ্চিহ্ন করে শান্তি প্রতিষ্ঠাই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শ। সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও রহমত হিসেবে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। যিনি জাহেলিয়াতকে (মূর্খতা), অন্ধকার যুগকে আলোকিত যুগে পরিণত করেছেন। আল্লাহর এই মহান নিয়ামত লাভের জন্য আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহরই নির্দেশ।
গতকাল রোববার সকালে আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, ঢাকা শাখার ব্যবস্থাপনায় এবং গাউসিয়া কমিটি, ঢাকার সহযোগিতায় এই জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। জুলুসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন।
মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে জুলুসটি শুরু হয়। এটি তাজমহল রোড, কৃষিমার্কেট, রিং রোড, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে জুলুসটি শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা ও ইসলামী বাণী সংবলিত বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও পোস্টার। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অংশগ্রহণকারীরা হামদ, নাতে রাসুল ও গজল পরিবেশন করেন। বর্ণাঢ্য জুলুসকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও মাহফিল।
প্রধান অতিথি পীর সাবির শাহ আরও বলেন, আল্লাহর প্রিয়নবী পৃথিবীর বুকে শুভাগমনের ফলে বর্বর জাতিকে সভ্য জাতিতে পরিণত করেছেন। অবহেলিত নারী সম্মানিত হয়েছে, অধপতিত মানব জাতি অধিকার ফিরে পেয়েছে। যে নবীর আগমনে পৃথিবী আলোকিত হয়েছে সে নবীর আগমনে আনন্দ উদযাপন করা কোরআনের শিক্ষা। তাই জশনে জুলুস শুধু উৎসবই নয়, এটা নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ। মাহফিলে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল–আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়েকেরাম। মাহফিল পরিচালনা করেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক।
বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সমপ্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, আনজুমান সদস্য তৌহিদুল করিম, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ঢাকা আনজুমানের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি আবদুল মালেক বুলবুল, এস এম গোলাম কিবরিয়া, সোয়েবুজ্জামান চৌধুরী তুহিন, হযরত আলী, আবুল কাশেম, গাউসিয়া কমিটি ঢাকার সেক্রেটারি মোহাম্মদ কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আওলাদে রাসূলগণ আজ চট্টগ্রামে আসছেন : ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এ নেতৃত্ব দিতে আজ চট্টগ্রামে আসছেন আনজুমান ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট, আওলাদে রাসুল, পীরে বাঙাল, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মা.জি.আ), সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাশেম শাহ্ (মা.জি.আ) এবং সাহেবজাদা সৈয়্যদ আকিব আহমদ শাহ্ (মা.জি.আ)। হুজুর কেবলাগণকে বরণ করতে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা ও আলমগীর খানকাহ্–এ কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়ায় আশেকে রাসূলগণ অপেক্ষায় আছেন। আজ বাদে মাগরিব জামেয়ার ময়দানে পবিত্র গেয়ারভী শরীফ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে হুজুর কেবলাগণ তাশরিফ রাখবেন এবং পীর–এ বাঙাল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মু.জি.আ)-এর ইমামতিতে নামাজে এশা অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












