নিমগ্ন চোখে প্রকৃতির মাঝে তাকালেই দুনিয়ার যত রহস্য ও শিক্ষার রসদ দেখতে পাওয়া যায়। আর খুঁজে পাওয়া যায় সত্যের সন্ধান। আজ বলবো টিকটিকিকে নিয়ে কিছু টুকটাক কথা। দেয়ালে বসে থাকা টিকটিকি বড় বিচিত্র প্রাণি। বিপদের আভাস পেলেই সে নিজের লেজ ফেলে দিয়ে নির্বিকার মুখে অন্যদিকে হাঁটা দেয়। অথচ মানুষ নামের প্রাণিটি মাঝে মাঝে তার থেকেও অদ্ভুত। হিংসা আর ঈর্ষার চশমা চোখে পরলে সত্যকে আর সত্য বলে মনে করে না; তখন সে টিকটিকির ফেলে দেওয়া লেজটাকেই আসল প্রাণ ভেবে তার পেছনে ছুটে বেড়ায়। যে মানুষ সত্যের আলো সহ্য করতে পারে না, সে গুজবের আঁধারেই স্বস্তি খোঁজে। অন্যের সাফল্যে যার বুকের ভেতর কাঁটাঝোপ জন্মায়, সে সত্যকে স্বীকার করার বদলে টিকটিকির লেজ ধরে টানাটানি করতে বেশি আনন্দ পায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, লেজ যতই টানা হোক, টিকটিকি ততক্ষণে অনেক দূরে চলে যায়; হাতে থাকে শুধু একখণ্ড কাঁপতে থাকা বিভ্রম। তাই হিংসুকের যুক্তির সঙ্গে কুস্তি লড়া কিংবা ঈর্ষাপীড়িত মানুষের কাছে সত্যের সনদ চাইতে যাওয়া অনেকটা শুকনো পাতার কাছে বর্ষার গান শেখানোর মতো। এতে সময় নষ্ট হয়, মন ক্ষয় হয়, আর হাসির পাত্র হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। বুদ্ধিমান মানুষ জানে, টিকটিকির লেজ ধরে টানাটানি নয়– চোখ তুলে দেয়ালের ওপরে তাকাতে হয়। কারণ সত্য কখনো লেজে বাস করে না; সে সবসময় নিজের পথেই হেঁটে যায়, আর হিংসা–ঈর্ষা শেষ পর্যন্ত নিজের ছায়াকেই কামড়াতে থাকে।











