ঝড় আসছে বললেন, সংকেতটাও বলে দিন

ফখরুলকে কাদের

| রবিবার , ২১ মে, ২০২৩ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

সরকার পরিবর্তনের হুমকি দিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের জবাব দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, প্রতিদিনই বলছেন সময় শেষ। জানতে চাই, সময়টা কত, কয়দিন আর সময় পাব? দিনক্ষণটা একটু বলুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব, কবে সময় শেষ, আর নাকি সময় দিবেন না, তো বলেন না কেন, ক্ষণ তারিখ বলেন। সময় বলেন, আমরাও একটু তৈয়ার হই কীভাবে ঝড় আসে, ঠাকুরগাঁও থেকে আসে না লন্ডন থেকে আসে। কোথা থেকে ঝড় আসবে সেটা একটু বলে দিন, কত নম্বর বিপদ সংকেত সেটাও একটু বলে দিন। তাও বলে দিন, সরকারকে বিদায় দেবেন, সরকারেরও তো একটা প্রস্তুতি আছে।

গতকাল ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী ওলামা লীগের প্রথম সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের এ কথা বলেন। একদিন আগে শুক্রবার ঢাকার শ্যামলী ক্লাব মাঠে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী আজকে যতই চিল্লাচিল্লি করেন, যতই জাপান, যুক্তরাজ্য, আমেরিকা আর সৌদি আরব, কাতার, চীনে যান, কোনো লাভ হবে না। সময় শেষ, এটাই বাস্তবতা। তার আগে এক সমাবেশে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, সামনে রাজনৈতিক ঝড় আসছে। খবর বিডিনিউজের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১০ বছর ধরে শুনতে পাচ্ছি, সরকারের সময় শেষ। এই সরকারের সময় কত এটা জানেন মহান সৃষ্টিকর্তা। এই সরকারের সময় কত এটা জানে এই দেশের জনগণ। এই সরকারের সময় পরিবর্তন হবে কিনা সেটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ এবং আল্লাহ পাক।

তিনি বলেন, তীব্র বেগে নাকি ঝড় আসছে, সেই ঝড় শেখ হাসিনার গদি উল্টে দেবে। কত নম্বর বিপদ সংকেত সেটা বলেনি। এই ঝড়ের কথা শুনতে আছি ১০ বছর ধরে। দশ বছর ধরে শুনছি, আর সময় নাই, আর সরকারের সময় নাই। দেখতে দেখতে ১৪ বছর, ঝড় হবে কোন বছর? দেখতে দেখতে ১৪ বছর, সরকার যাবে কোন বছর? মির্জা ফখরুলকে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, মোখা সাইক্লোন কয় দিন আগে গেছে, আল্লায় যারে বাঁচায়, কেউ তারে মারতে পারে? বাংলাদেশকে আল্লায়ই বাঁচিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনা ভাগ্যবতী, আল্লার ইমানদার বান্দা এবং সেজন্যই বাংলাদেশে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের মধ্যেও তেমন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে কাদের বলেন, শুনেনফখরুল সাহেব, এত হল্লাচিল্লা করে ৫২ দল, ৫৪ দল, ২৭ দফা, ১০ দফা, বিক্ষোভ সমাবেশ, তারপরে পদযাত্রা, তারপরে অবস্থান, তারপরে মানববন্ধন, একে একে কত কর্মসূচি দিলেন, কী হলো? আপনাদের আন্দোলন এখন পথ হারিয়ে দিশেহারা পথিকের মতো। নানান মুখী হাঁকডাক দিয়ে এখন পথিক পথহারা। প্রতিদিনই বৈঠক করে কর্মসূচি ঠিক করে, বারবার বসেও আন্দোলনের রূপরেখা এখনও ঠিক করেতে পারেনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইমান ঠিক আছে। আওয়ামী লীগের শিকড় এই দেশের মাটির অনেক গভীরে, আওয়ামী লীগ কচু পাতার উপর ভোরের শিশির বিন্দু নয় যে টোকা লাগলে পড়ে যাবে। এ কথা যদি মনে করেন ভুল করছেন।

আওয়ামী লীগও আন্দোলনের মধ্যে আছে জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সারা বাংলাদেশে আমরাও একটা আন্দোলনে আছি। বিএনপি আছে সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে। আমরা আছি জনগণের জানমাল রক্ষার আন্দোলনে। জনগণের যানমাল রক্ষায় আমাদের আজ শান্তি সমাবেশ করতে হচ্ছে। আমরা সন্ত্রাস চাই না, আমরা শান্তি চাই। আমরা সাম্প্রদায়িকতা চাই না, আমরা চাই অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতাবোধ। যে চেতনা আজকে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুকন্যা স্বল্পোন্নত দেশকে আজকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশে রূপান্তর করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফয়সালা হবে রাজপথে : ফখরুল
পরবর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে ১০ লাখ টাকার মাদকসহ কারবারি আটক