বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ ও গোলকিপিং কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ৩০০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রধান কোচের জন্য ২২ জন এবং গোলকিপিং কোচের জন্য ১৪ জনের প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন।
আজ ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট সময় ছিল ৩০ তারিখ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে পাওয়া আবেদন থেকে হেড কোচের জন্য ২২ জন এবং গোলকিপিং কোচের জন্য ১৪ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছি। আজ নাম প্রকাশ করছি না, আগামীকাল প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হবে।’ কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘আমরা কোচের পারফরম্যান্স, বর্তমান কাজের জায়গা, জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা এবং এশিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা দেখেছি। ভাষাগত দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সবচেয়ে আগে দেখেছি প্রো–লাইসেন্স আছে কি না যাদের ছিল না, তাদের শুরুতেই বাদ দেওয়া হয়েছে,’ বলেন তিনি। বয়সের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রাখা হলেও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইকবাল বলেন, ‘৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কোচ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে ৬৩–৬৫ বছর বয়সী কিছু ভালো কোচকেও রেখেছি। এখানে বয়সের চেয়ে অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।’
আবেদনকারীদের মধ্যে বৈচিত্র্যও রয়েছে বলে জানান তিনি। ‘এশিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এশিয়ার বাইরের অনেক কোচও তালিকায় আছেন আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকেও কোচ রয়েছে,’ বলেন তিনি। ভালো মানের কোচ আনতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে ইকবাল বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ভালো কোচ আনতে হলে ভালো অর্থ ব্যয় করতেই হবে, সে প্রস্তুতি আমাদের আছে।’ এখনো কোনো কোচের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, শর্টলিস্ট জমা দেওয়ার পর ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলোচনা শুরু হবে।
শেষ পর্যায়ে ফুটবলারদের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ‘তালিকা তিন–চার জনে নেমে এলে তখন খেলোয়াড়দের মতামত নেওয়া হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।













