
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯–১৯৪৫) পরবর্তী সময়ে মিত্র শক্তি জয়লাভের মধ্যে দিয়ে সমগ্র বিশ্বে এক প্রকার রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটে। বিশ্ব দুই পরাশক্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরাজিত দেশগুলোকে এক প্রকার ভাগবাটোয়ারা করে নেয় এই দুই পরাশক্তি। আবার কিছু কিছু দেশ যাতে আর কখনো সামরিক শক্তিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে– তারও ব্যবস্থা করেছে এই দুই পরাশক্তি। আর পরাজিত শক্তি তথা দেশগুলো উপলব্ধি করতে পারে যে, যুদ্ধ ধ্বংস ডেকে আনে। ফলে এ দেশগুলো তাদের পরিশ্রম, মেধা এবং কর্মশক্তিকে সামরিক কাজে ব্যবহার না করে উৎপাদন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে শুরু করে। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে এসে অধিকাংশ পরাজিত দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শুরু করে। দেশে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মনযোগ দেয়। শুধু তা নয়। উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করতে গিয়ে প্রচন্ড প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ী দেশগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও উৎপাদনে নিজদেরকে খুবই সেরা মনে করতো। ফলে বিশ্বের রপ্তানি বাজার ছিল তাদের দখলে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত দেশগুলো বিশ্ববাজার তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা ছিল প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত দেশগুলো ধীরে ধীরে রপ্তানির বাজার দখল করতে শুরু করে। তাদের রপ্তানি পণ্যের প্রতি মনযোগ ছিল দুই দিক থেকে। আধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কার এবং তা ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করা ও তা রপ্তানি করা। রপ্তানিকৃত পণ্যটি উৎপাদন করতে গিয়ে এই দেশগুলো তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়। প্রথমতঃ সম্ভাব্য রপ্তানিকৃত পণ্যটিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা। দ্বিতীয়ত: পণ্যটির একক প্রতি উৎপাদন খরচ কমানো। আর তৃতীয়ত: পণ্যটি আকর্ষণীয় মডেলে তৈরি করা। এই তিনটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ দেশগুলো যখন পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে থাকে তখন বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে এসে এই দেশগুলো আস্তে আস্তে বিশ্ব বাজার দখল করতে শুরু করে। এক বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে এই পরাজিত দেশগুলো প্রায় বিশ্ব বাজার দখল করে নেয়। এ অবস্থা বেগতিক দেখে তথাকথিত উন্নত দেশগুলো তাদের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে অধিক পরিমাণ শুল্ক আরোপ শুরু করে। শুধু তাই নয়, নিজদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন প্রকারের অর্থনৈতিক সংঘ বা সংগঠন করা শুরু করে। তার দেখাদেখি এশিয়ার দেশগুলোও বাণিজ্যিক সংগঠন করে যা পরবর্তীতে ফলপ্রসূ হয়নি।
প্রকৃতপক্ষে অর্থনীতি চলে নিজস্ব নিয়মে। বিশেষ করে পুঁজিবাদী ও মিশ্র অর্থনীতিতে একটি অদৃশ্য শক্তি কাজ করে যা কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। অর্থনীতির জনক এডাম স্মিথ তার লিখিত গ্রন্থে বাজার শক্তি বা পুঁজিবাদী অর্থনীতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন ‘অদৃশ্য হাত’– এর কথা। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, অর্থনীতিকে চালাবে কে? তিনি এর উত্তরে বলেছেন ‘অদৃশ্য হাত’ বা Invisible Hand. অর্থাৎ বাজার প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে অর্থনীতি পরিচালিত হবে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হয়। মনে করি একটি বিশাল স্থানীয় বাজারে প্রায় ১০টি মুদি সামগ্রীর দোকান আছে। তন্মধ্যে ১টির মালিক হচ্ছে সনাতন সম্প্রদায়ের একজন। ধর্মীয় বিধি ব্যবস্থা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে সনাতন সম্প্রদায়ের দোকানটিতে বেচাকেনা কম হওয়ার কথা। কিন্তু ঐ দোকানের মালিক তিনটি পন্থা অবলম্বন করেন। প্রথমত: তিনি সব সময় ভাল মালামাল বিক্রয়ের চেষ্টা করেন। দ্বিতীয়ত: মুনাফা কম করে স্বল্পদামে মালামাল বিক্রয় করেন, তৃতীয়ত: তিনি সবসময় বিনয়ী এবং ভাল ব্যবহার করেন। ফলে দেখা যাবে, যিনি প্রচন্ড ধর্মীয় মনভাবাপন্ন তিনিও ঐ সনাতন সম্প্রদায়ের দোকান থেকে মালামাল ক্রয় করেন। অর্থাৎ বাজার প্রক্রিয়ার কোন সাম্প্রদায়িক মনভাবের স্থান নেই। এটাকে এডাম স্মিথ বলেছেন– অদৃশ্য হস্ত। অন্যভাবে বলা যায়, দাম প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে পুঁজিবাদী ও মিশ্র অর্থনীতি পরিচালিত হয়।
এখন এই দাম প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য চুক্তি প্রক্রিয়া চালু করেছে। কোনো রকমে এক দেশ অন্য দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারলে এই দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি রপ্তানি হতে বাধ্য। কারণ চুক্তির আওতায় বাণিজ্য হচ্ছে। এতে একটি দেশ লাভবান হতে পারে এবং অন্য দেশ লাভবান নাও হতে পারে। আবার পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু পণ্য হয় কৃষিতে উৎপাদিত, আর কিছু পণ্য হয় শিল্পে উৎপাদিত। এই কথা সত্য যে, কৃষিতে উৎপাদিত পণ্য অনেকাংশে পচনশীল। এসব পণ্য বেশিদিন মজুদ করে রাখা যায় না। অপরপক্ষে দেখা যায়, শিল্পে উৎপাদিত পণ্য তেমন পচনশীল নয়। কৃষি পণ্যের তুলনায় শিল্প পণ্যের স্থায়িত্ব অধিক। যে কোনো রপ্তানিকৃত দেশ চায় চুক্তির আওতায় স্বল্প সময়ে অধিক পণ্য রপ্তানি করতে। অবশ্য এর পিছনে আছে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা। এরূপ চিন্তাধারা হচ্ছে অর্থনীতিতে নতুন সংযোজন। ইহাকে অর্থনীতির পরিবর্তীত চিন্তাধারাও বলা যায়। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নাম দেয়া হয়েছে জাতীয়তাবাদী অর্থনীতি। ভূ–প্রকৃতি পরিবেশ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, রীতিনীতি, ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি এক এক দেশে এক এক রকম। আবার অর্থনীতির মানদন্ডেও এক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও এক এক রকম। কোনো কোনো দেশ উন্নত। কোনো কোনো দেশ স্বল্পোন্নত আবার কোনো কোনো দেশ অনুন্নত। ফলে এই দেশসমূহের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের পরিমাণও এক এক রকম। কিন্তু প্রতিটি দেশ চায় নিজ নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে। এ কারণে জাতীয়তাবাদী অর্থনীতির উন্মেষ ঘটেছে। আবার এর সাথে যুক্ত হয়েছে রাজনীতি।
বলা যায়, বিশ্বের রাজনীতিতে গত এক দশকে একটি নতুন অর্থনৈতিক চিন্তাধারার জন্ম হয়েছে। প্রতিটি দেশের মতাদর্শ আলাদা, রাজনৈতিক অবস্থা আলাদা, অর্থনৈতিক কাঠামোও আলাদা। তবুও অধিকাংশ দেশের জাতীয়তাবাদী অর্থনীতির স্লোগান যেন একই রকম। অধিকাংশ দেশ বলতে শুরু করেছে– সবার আগে বাংলাদেশ, অর্থাৎ বাংলাদেশ ফার্স্ট, আমেরিকা ফার্স্ট, ইন্ডিয়া ফার্স্ট, নাইজেরিয়া ফার্স্ট, ইতালি ফার্স্ট, চায়না ফার্স্ট ইত্যাদি। অথচ ইতিপূর্বে জনপ্রিয় একটি শব্দ প্রায় সকল দেশগ্রহণ করেছে। সেই শব্দ হলো– বিশ্বায়ন। কিন্তু বিশ্বায়নের ধারণাকে যদি কোনো দেশ গ্রহণ করে তবে সেই দেশ জাতীয়তাবাদী অর্থনীতিকে গ্রহণ করতে পারে না, এক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক সম্পর্ক এসে দাঁড়ায়। হয়তো বিশ্বায়নকে গ্রহণ করে জাতীয়তাবাদী অর্থনীতিকে বর্জন করতে হবে, নয়তো জাতীয়তাবাদী অর্থনীতিকে গ্রহণ করে বিশ্বায়নকে বর্জন করতে হবে। বলা বাহুল্য যে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বেছে নিয়েছে জাতীয়তাবাদী অর্থনীতিকে। একবিংশ শতাব্দীর আগে থেকে মুক্তবাজার, উন্মুক্ত বাণিজ্য ও বিশ্বায়নের প্রতি আস্থা হারিয়েই যেন দেশগুলো জাতীয়তাবাদী অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। অবশ্য বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেখা যায়, কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বাণিজ্য সংগঠিত হয়। উদ্দেশ্যগুলো হয়– দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া, আমদানি কমানো, ভর্তুকি দিয়ে শিল্প গড়ে তোলার প্রবণতা, প্রতিটি দেশের নিজস্ব শিল্পনীতি অনুসরণ ইত্যাদি। এই উদ্দেশ্যসমূহের সাথে রাজনীতি যুক্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী অর্থনীতির উন্মেষ ঘটেছে। ফার্স্ট এখন এমন এক রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার দেশেও সমান কার্যকর। উন্নত, উন্নয়নশীল বা অনুন্নত সব দেশে এর আবেদন বাড়ছে। ফার্স্ট শব্দটির আবেদন বৃদ্ধি পাওয়ার পিছনে কতগুলো কারণ আছে। চীনে আবাসন খাতের দীর্ঘ সংকট ও অভ্যন্তরীণ খাতের চাহিদা মিটাতে উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এক সময়ে চীন বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও সৌরপ্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্য হলো রপ্তানি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটানো, এভাবে চীনের অর্থনীতি হয়ে উঠেছে রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি। তবে স্বার্থকে সমুন্নত রেখে রপ্তানির পরিমাণকে বাড়িয়েছে। অর্থাৎ ‘চায়না ফার্স্ট’– নীতি গ্রহণ করেছে।
বিশ্বে বড় অর্থনীতির দেশ ভারত। ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ এর পরিবর্তে ভারতের স্লোগান ছিল ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’। এই স্লোগানের উদ্দেশ্য ছিল– আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন, উচ্চ শুল্ক, দেশীয় উপাদান ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে এনে দেশের ভেতরে শিল্প গড়ে তোলা। প্রকৃতপক্ষে এই স্লোগানের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিল্পে দক্ষতা বৃদ্ধির চেয়ে শিল্পে সুরক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমেরিকার স্লোগান ছিল– ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। এ স্লোগান ছিল রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপকাশ। বিশ্বায়ন চলাকালে অসংখ্য শিল্প–কারখানা চলে গেছে আমেরিকা থেকে অন্য দেশে। ফলে অসংখ্য লোক কর্মসংস্থান হারিয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান দৃষ্টির সুযোগও কম ছিল। শিল্প শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মনে করেছে তারা বিশ্বায়নের কোনো সুফল পায়নি। এ অবস্থায় দেশে শিল্পায়ন করতে হলে বিদেশি পণ্য আমাদনিতে বাধা দিতে হবে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর এত এত শুল্ক আরোপ। শুল্ক আরোপ পরবর্তী আমেরিকার অর্থনীতিতে বেশকিছু শিল্প ফিরে এসেছে। তবে পুরাতন চেহেরায় নয়। বরং নতুন চেহেরায়। অর্থাৎ ফিরে আসা শিল্প–কারখানাগুলো এখন আর শ্রমনির্ভর শিল্প হয়ে ফিরে আসেনি। বরং ফিরে এসেছে মানবীয় শ্রমের পরিবর্তে রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন নির্ভর হয়ে। সুতরাং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শুধুমাত্র শিল্প কারখানা ফিরিয়ে আনার স্লোগান নয়। এটি এমন এক সামাজিক বাস্তবতা পুনর্গঠনের চেষ্টা, যা দ্বারা সমগ্র আমেরিকার অর্থনৈতিক ভিত্তি বদলে গেছে।
চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেক্ষাপট প্রায় একই। এই তিন দেশের নীতি এক নয়। রাজনৈতিক ব্যবস্থাও এক নয়। কিন্তু তিন দেশের উদ্দেশ্য এক। উদ্দেশ্যটি হলো– জাতীয় শক্তি–সামার্থ্য বাড়াতে হলে উৎপাদনের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে, বিদেশনির্ভরতা কমাতে হবে এবং অর্থনীতিতে সরকারের ভূমিকা বাড়াতে হবে। ‘ফার্স্ট’ শব্দটি কেবল অর্থনৈতিক কর্মসূচি বা অর্থনৈতিক কোনো মতবাদ নয়। এ শব্দটি একটি রাজনৈতিক সংকেত। এই সংকেতের মাধ্যমে ভোটারকে বলা হচ্ছে রাষ্ট্র আবার তার নাগরিকদের পক্ষে দাঁড়াবে। অন্য দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজ দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। বিশ্বায়নের যুগে হারিয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বায়ন, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, অভিবাসন, নিরাপত্তা– এসব জটিল প্রশ্নকে এটা একটি সহজ উত্তরে নামিয়ে আনে এভাবে– ‘এতদিন অন্যদের কথা ভাবা হয়েছে। এবার নিজদের কথা ভাবার সময়’। এরপরও যদি এ বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় তবে চলে আসে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। ‘আপনি দেশের পক্ষে নাকি দেশের বিরুদ্ধে?’ এর ফলস্বরূপ ‘ফার্স্ট’ শব্দটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এভাবে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলমান। কিন্তু রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানো আর রাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানো– এ দুইটি এক জিনিস নয়। রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশ শক্তিশালী হয়। আর্থিকভাবে সবল হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে সরকার ক্ষমতাশালী হয়। এ যাত্রা শুরু হয় ‘দেশ আগে’ বলে। কিন্তু শেষ প্রান্তে দেখা যায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি না পেয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটা সাময়িকভাবে মঙ্গলজনক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়। রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাক–ইহাই একান্ত কাম্য। অতএব জাতীয়তাবাদী অর্থনীতির প্রধান উদ্দেশ্য হোক রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি। রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি নয়।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম।












