স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের যেকোনো বিপদ–আপদে পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।’ তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনগণ’ নীতি সামনে রেখেই কাজ করছে সরকার।’ কক্সবাজারের উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০০টি ঘর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ঘরবাড়ি বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারই নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও গবাদিপশু পালকদের জন্যও সরকার সহায়তা কর্মসূচি নিয়েছে। যাদের বীজতলা, চারা বা কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করে সহায়তা দেয়া হবে।’ এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, সড়কসহ সব ধরনের অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সবসময় দেশের মানুষের পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো স্থিতিশীল সমাজের অন্যতম শর্ত জননিরাপত্তা। জনকল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও জননিরাপত্তার বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সন্দেহ নেই, উন্নয়ন–অগ্রগতির পথে আমরা হাঁটছি। কিন্তু জননিরাপত্তা–সামাজিক শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক–অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে নিয়মনীতির যথাযথ প্রতিপালন ইত্যাদি জরুরি বিষয় এখনও অনেক ক্ষেত্রেই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অপরাধ সমাজের অন্যতম গুরুতর ব্যাধি এবং এই ব্যাধি উন্নয়ন–অগ্রগতির অন্যতম প্রতিবন্ধক। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে এ রকম তিক্ত অভিজ্ঞতা ইতঃপূর্বে আমাদের সঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির মতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির উদ্ভব কিংবা জিইয়ে থাকা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। তাঁরা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, অপরাধ বেড়েই চলেছে। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চলন্ত বাসে ছিনতাই, ধর্ষণ, রাহাজানি প্রতিদিনই সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। বলা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি খোদ রাজধানীতে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, বাস্তবতা পর্যালোচনায় বলা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীর জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশবাসী রাস্তায় চলার সময় দিন, দুপুর, রাতে কখনোই নিরাপদবোধ করেনি। প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অরাজকতা দেখতে হয়েছে। এতে বেড়ে গিয়েছিল উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা। এছাড়া প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনা, গণপিটুনিতে হত্যা, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করারও ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই বর্তমান সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা করা প্রয়োজন সেইসব পদক্ষেপ নেবে। কারণ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের অপরাধ পরিস্থিতি, সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের সক্ষমতা এবং পুলিশের কার্যকর মোকাবেলার সক্ষমতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছতে হলে সরকার, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। জনবান্ধব একটি পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জননিরাপত্তা এখনও পরিপূর্ণভাবে দেশে নিশ্চিত করা না যাওয়ার পেছনে নানা কারণও বিদ্যমান। একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আমলে রাখতে হবে, ‘জনবিড়ম্বনা এবং সরকারের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে পরিস্থিতি বৈরিতার গণ্ডিতেই থেকে যায়।’ দেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রত্যেক স্তর থেকে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটছে–এমন অভিযোগ আমরা পাচ্ছি নিয়মিত। এ বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক তা আমরা চাই না। তাই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে।
জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। জনকল্যাণের জন্য চিন্তা ও কাজ করার সাহস রাখেন এমন উদ্যমী ও সৃজনশীল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দরকার।








