বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাউজানের মহামুনি মন্দিরে আজ বুধবার (১৩ এপ্রিল) আদিবাসী নারী-পুরুষের ঢল নেমেছে।
১৮৪৩ সাল থেকে বাংলা বর্ষের শেষ দিনে (চৈত্র সংক্রান্তি) এই মন্দিরে পূজা দিতে আসা যাওয়ায় আছেন পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী নারী-পুরুষরা। তারই ধারাবাহিকতায় মুহামুনিতে আদিবাসীদের আজকের জনস্রোত।
উল্লেখ্য, গত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে আদিবাসীরা এই মন্দিরে আসতে পারেনি চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবে যোগ দিতে। এ বছর মহামারির আতংক না থাকায় অতীতের রেওয়াজ অনুসরণ করে বাংলা বর্ষের শেষ দিনে তারা যোগ দিয়েছে চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবে।
ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে ‘চাইঙ্গা ঠাকুর’ নামের এক বৌদ্ধ ভিক্ষু বার্মার রোসাং থেকে মুহামুনি নামের বিখ্যাত বুদ্ধ মূর্তির অনুকরণ করে পাহাড়তলীতে এনে স্থাপন করেছিলেন।
সেই সময় থেকে পাহাড়তলীর এই বৌদ্ধ গ্রামটি মুহামুনি নামে স্বীকৃত হয়।
মহামুনি মূর্তি প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন সময়ের পার্বত্য চাকমা রাণী কালিন্দা এই মন্দিরের প্রতি অনুরক্ত হয়ে মন্দিরটির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি তার ব্যবস্থাপনায় তখন সূচিত হয়েছিল এখানে চৈত্র সংক্রান্তিতে মহামুনি মেলা।
এলাকার প্রবীণদের মতে যুগে যুগে চলে আসা এই ঐতিহাসিক মেলা এক সময় পরিণত হয় পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায়।
আজ এখানে দেখা গেছে আদিবাসীদের এই উৎসবকে ঘিরে মন্দির এলাকায় বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা।
নতুন বছরের সূচনার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আদিবাসীরা মহামুনি গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার আগে মেলা থেকে কেনাকাটা করবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
১৪ এপ্রিল নববর্ষের প্রথম দিন মন্দির এলাকায় মহামুনি গ্রামবাসী আয়োজন করবে বর্ষবরণের বিভিন্ন রকমের কর্মসূচি। চলবে কয়েকদিন।














