চবিতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সভা

চবি প্রতিনিধি | বুধবার , ২৬ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

সরকার ঘোষিত ১৬৩০ আগস্ট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফিশারিজ বিভাগের উদ্যোগে ‘আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি; রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে মৎস্য বিষয়ক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়য়। গতকাল মঙ্গলবার মেরিন সায়েন্সস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন এবং উপউপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাদাত হোসেন ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. .এম মাসুদুল আজাদ চৌধুরী। মূখ্য আলোচক ছিলেন ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রাশেদউননবী। সভাপতিত্ব করেন ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আজম খান।

প্রধান অতিথি বলেন,আমরা যখন মৎস্য ও নীল অর্থনীতি নিয়ে কথা বলি, তখন শুধু মাছ উৎপাদন বা মৎস্য চাষের মধ্যে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মৎস্যসম্পদের রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধ, প্রজনন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত প্রভাব, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য আইন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির অন্যান্য বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি, সমুদ্রের বিশাল সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু এই অর্জন আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কাঙ্‌ক্িষত প্রভাব ফেলতে পেরেছে কি না, সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমাদের আরও কার্যকর ও প্রয়োগমুখী গবেষণা করতে হবে। মেরিন সায়েন্স ও ফিশারিজ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই গবেষণার নেতৃত্ব দিতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপউপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন বলেন, ফিশারিজ বিভাগে বর্তমানে শিক্ষকসংখ্যা সীমিত হলেও তাঁরা যেভাবে নিয়মিত একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।উপউপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পানিদূষণ এবং অবৈধ মৎস্য আহরণের কারণে আমাদের মৎস্যসম্পদ ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে পড়ছে। শিল্পকারখানা, জাহাজ ও নৌযান থেকে বর্জ্য নিক্ষেপসহ বিভিন্ন কারণে পানিদূষণ বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিকর ও সূক্ষ্ম জাল ব্যবহারের ফলে ছোট মাছ ও পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা মাছের প্রজনন ও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এই সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়া অতিথিবৃন্দ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবার্জার পেইন্টসের ৫৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা
পরবর্তী নিবন্ধবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করবে জেলা পরিষদ : শামীম