নতুন স্বপ্ন, নতুন পথচলা আর এক ভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার সূচনায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। Outcome-Based Education (OBE) কারিকুলামে পাঠদান শুরু এবং একযোগে সব বিভাগে ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
গতকাল রোববার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। প্রতিটি বিভাগের সেমিনার কক্ষ, করিডর আর প্রাঙ্গণে দেখা গেছে নবীনদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি। কোথাও শিক্ষকদের আন্তরিক পরিচয়পর্ব, কোথাও আবার সিনিয়রদের পরামর্শ, সব মিলিয়ে নতুনদের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্–ফোরকান দিনটিকে অভিহিত করেন ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে। তিনি বলেন, আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। একযোগে সব বিভাগে ওবিই কারিকুলামে সেমিস্টার পদ্ধতিতে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা প্রত্যাশা করি। নতুন এই কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, তোমরা এ বিভাগে ভর্তি হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছো। এ বিভাগের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে, সামনে তোমাদের হাতেই তা আরও সমৃদ্ধ হবে। এখন সময় নিজেকে প্রমাণ করার নিজের ভিতরের প্রতিভা জাগিয়ে তোলো, দেখবে সফলতা আসবেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম কিবরিয়া নবীনদের সতর্ক করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই পথই রয়েছে। তোমাদের সচেতনভাবে ইতিবাচক পথ বেছে নিতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. লায়লা খালেদা শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
নবীনদের চোখে এ দিনটি ছিল একসঙ্গে উত্তেজনা, স্বপ্ন আর অজানার শিহরণে ভরা। ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান নাঈম বলেন, আজকে আমার প্রথম ওরিয়েন্টেশন ক্লাস ছিল। আমি অনেক আনন্দের সাথে গিয়েছিলাম সে ক্লাসে। মনোরম পরিবেশ দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। শিক্ষকদের দেওয়া নির্দেশনাগুলো আমাদের জীবনে অনেক কাজে আসবে বলে আমি মনে করি। তাদের দিকনির্দেশনাগুলো ছিল অত্যন্ত সুন্দর। সাথে ছিল আমাদের সহপাঠীরা, প্রত্যেকের কথাবার্তা এবং বন্ধুসুলভ আচরণ মনকে আরো প্রফুল্ল করে তোলে। তার সাথে আরও বেশি আনন্দিত বাংলাদেশের সবথেকে বড় ক্যাম্পাস চবির মতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পেরে। আজকের দিনটা আমার জন্য চিরস্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। চবিতে চালু হওয়া ওবিই পদ্ধতি মূলত ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় শিক্ষার্থীর অর্জিত দক্ষতা ও বাস্তব প্রয়োগক্ষমতার ওপর। প্রতিটি কোর্সে নির্ধারিত থাকে Course Learning Outcome (CLO) ও Program Learning Outcome (PLO), যার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হয় শিক্ষার্থীদের। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ১০০ নম্বরের মধ্যে ৬০ নম্বর থাকবে সেমিস্টার ফাইনাল লিখিত পরীক্ষার জন্য এবং বাকি ৪০ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এই ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় থাকবে ক্লাস উপস্থিতি, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও মিডটার্ম পরীক্ষা অর্থাৎ পুরো সেমিস্টারজুড়ে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।












