চন্দনাইশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বরকল ইউনিয়নের উত্তর বরকল সর্দার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।এতে কৃষকদের ঘরে রক্ষিত নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, কৃষকদের রক্ষিত কয়েকশ আড়ি শুকনো ধান, শুকনো মরিচ, আসবাবপত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
জানা যায়, রাত ১১টার দিকে পুড়ে যাওয়া যে কোন একটি বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন মুহুর্তেই পুরো ৭টি বসতঘর গ্রাস করে নেয়। পুড়ে যাওয়া বসতঘরের সদস্যরা এক কাপড়ে প্রাণ নিয়ে কোন প্রকার ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও ঘরে রক্ষিত কোন কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলো মুন্নি আকতার, আবুল হাসেম, মাহামুদ হাসান, শাহ আলম, সাইফুদ্দিন, আবদুস সবুর, নুরুল আলম।
স্থানীয় স্বপ্নবিলাস বিদ্যা নিকেতনের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, রাতে সংঘঠিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭টি পরিবারের সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পরণের কাপড়টি ছাড়া তাদের কিছুই নেই। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে মুন্নি আকতারের নগদ ৬ লাখ টাকা, ১ ভরি স্বর্ণ, শাহ আলমের নগদ ৫৫ হাজার টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৯০ আড়ি শুকনো ধান, আবুল হাসেমের নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৬০ বস্তা শুকনো ধান, মাহামুদ হাসানের নগদ ১৫ হাজার টাকা, ৩০ হাজার টাকা শুকনো মরিচ, একটি সেচ পাম্প মেশিন, আবদুস সবুরের নগদ ২০ হাজার টাকা, ৬০ কেজি শুকনো মরিচ, ৩০ আড়ি শুকনো ধান, নুরুল আলমের নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং সাইফুদ্দিনে প্রায় দেড় লাখ টাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদ আমিনুর ইসলাম জানান, খবর পেয়ে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।












