চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। মিছিলটি জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে আলাওল হল হয়ে ২ নম্বর গেট এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীদের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই স্থান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। মিছিলটি জিরোপয়েন্ট থেকে আলাওল হল হয়ে নিরাপত্তা দপ্তর অতিক্রম করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ শেষে বক্তব্যে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুপ্ত শিবির হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন কর্মী জীবন দিয়েছে। আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না, করলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।’
চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ লেখা থাকলেও গুপ্তভাবে তারা ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শিক্ষার পরিবেশ যারা নষ্ট করতে চাইবে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের প্রতিহত করবে। আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, আর কোনো ছাড় হবে না।’
অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুল্লাহ খালেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের ভাইদের ওপর প্রতিটি আঘাতের বদলা নেব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।’
চবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করলে সেটির ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এনে এই হামলা করা হয়েছে। আপনারা যেভাবেই হোক ক্ষমতায় এসেছেন, দেশের মানুষ আপনাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চায় না।’














