চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৯৮ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স পেল চসিক

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৩০ জুন, ২০২৬ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা পরিশোধ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার চেক গ্রহণ করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র জানান, চসিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একক কোনো খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের নজির স্থাপিত হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, এটি শুধু একটি রাজস্ব আদায় নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য কর আদায়ের উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন বন্দরের কাছ থেকে কোনো ধরনের কম্পেনসেশন চার্জ গ্রহণ করে না। অথচ বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ টন ধারণক্ষমতার ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের নির্মিত সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কারেই অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই বন্দরের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং আইনি ভিত্তিতে নির্ধারিত ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্সই দাবি করা হয়েছে। ডা. শাহাদাত জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে উভয় প্রতিষ্ঠানের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন (জয়েন্ট অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালিত হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। যৌথ মূল্যায়নে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করায় এটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলেও সিটি কর্পোরেশন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই আজ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সিটি কর্পোরেশন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেওয়ানহাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ করিডোরকে আরসিসি সড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরসিসি সড়ক এবং আরও ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেওয়ানহাট ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনায় এই করিডোর আরসিসি সড়কে উন্নীত করা সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেয়র জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে চসিকের মোট প্রায় ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া প্রায় ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং চলতি অর্থবছরের দাবি প্রায় ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে হামের প্রকোপের মাঝে বাড়ছে ডেঙ্গুও
পরবর্তী নিবন্ধজাপানি রক্ষণের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভেঙে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল