ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার পর চট্টগ্রামে মাঠ পার্যায়ে (ইউনিয়ন পর্যায়ে) তৎপরতা বাড়িয়েছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা।
খবর নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার পর চট্টগ্রামে প্রতিটি ইউনিয়নেই বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। একটি ইউনিয়নে দলের একাধিক সমর্থনপ্রত্যাশী হওয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ কলহ বাড়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাঁচ ধাপে এবারের ইউপি নির্বাচন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১২ অক্টোবর ঘোষিত রোড ম্যাপ অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ভোট হবে ২৭ মে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয় হলেও চট্টগ্রামে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়। খবর নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সমর্থন পেতে পাঁচ থেকে ছয়জন তৃণমূল নেতা সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ নানান কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার আগে থেকেই চট্টগ্রামে উপজেলা গুলোতে ভোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বিভিন্ন দলীয় ও নির্দলীয় প্রতিনিধিরা। রোড ম্যাপ ঘোষণার পর থেকে তারা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। বাড়াচ্ছেন জনসম্পৃক্ততা।
প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিদিনই এলাকাভিত্তিক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়মিত বসছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক–মানবিক ও ধর্মীয় কাজে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতিও। অনেকেই নগরীর অভিজাত হোটেলেও বসার খবর রয়েছে।
রাউজান, ফটিকছড়ি এবং পটিয়াসহ একাধিক উপজেলায় খবর নিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী নিজ উদ্যোগে এলাকায় কোটি কোটি টাকার সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। বলতে গেলে জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকারের এই তিনটি নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলা সদর থেকে গ্রামীণ জনপদ ক্রমশঃ সরব হয়ে উঠছে। ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাটে–বাজার ও মসজিদে। কেউ কেউ পাড়া–মহল্লা ও বাড়ি বাড়ি গিয়েও স্থানীয়দের কাছে প্রার্থী হওয়ার বার্তা জানান দিয়ে সমর্থন কামনা করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ তৎপর রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলায় ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এরমধ্যে ১৮৯টি ইউনিয়ন নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে। দুটিতে জটিলতা রয়েছে। এরমধ্যে বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডীর ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে আলাদা ইউনিয়নের প্রস্তাবনা রয়েছে। আর সন্দ্বীপের উড়িরচরের সীমানা বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। এসব কারণে এই দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন করার পরিবেশ আপতত নেই।
নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমদ বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে সকল প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যখন যে নির্দেশনা দেবে, সেভাবে আমরা কাজ শুরু করবো।
এদিকে, ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি দল বিএনপি ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু করেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে তথ্য ফরম সংগ্রহ করেছে। উত্তরের বিভিন্ন উপজেলায়ও প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে।












