চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল শুক্রবার দেওয়ানহাট থেকে বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নীচে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানান মেয়র। প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এ সময় মেয়র নিজ হাতে গাছ লাগান এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির তদারকি করেন।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে এখানে ২৬ প্রজাতির গাছের ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। যেমন : অতসী, দাদমর্দন, ভাট, কলকাসুন্দা প্রভৃতি। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এইসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠন কৃষ্টি, স্বপ্নবাগিচা বিদ্যানিকেতন, স্বপ্ননগর বিদ্যানিকেতন, প্ল্যান্টেশন ফাউন্ডেশন, সুবাহ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা এতে অংশগ্রহণ করে।
উদ্বোধনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ক্লিন ও গ্রিন চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ১০ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য পূরণে কাজ করছি। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডকে সবুজায়নের মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চসিকের অর্থায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মিড–আইল্যান্ডের গাছের পরিচর্যা নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন গাছ লাগানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর জন্য পরিচিত। এখানে গাছের গুরুত্ব আরও বেশি। শহরের দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়ি এলাকার গাছপালা শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, তা ভূমি ক্ষয় রোধ, বন্যা ও ভূমিধস প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ। নগরীর আশপাশের বনভূমি ও সবুজ অঞ্চল রক্ষা করা, নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় গাছ রোপণ করা চট্টগ্রামের পরিবেশ ও বাসযোগ্যতা উন্নত করতে সহায়তা করে। গাছ কেবল পরিবেশের শোভা নয়, শহরের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং চট্টগ্রামকে আরও সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তোলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রক্তিম চৌধুরী, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়, উপপ্রধান পরিছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা, জোন কর্মকর্তা জাহেদ উল্লাহ রাশেদ, আবু তাহেরসহ এলাকাবাসী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










